হিজাব বিধিনিষেধ নিয়ে হাইকোর্টের শুনানির ঠিক আগ মুহুর্তে কর্ণাটকের এমজিএম কলেজে হিজাব পরা এবং গেরুয়া ওড়না পরা শিক্ষার্থীদের দুইটি দল বিক্ষোভ করছে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে।
বিক্ষোভের বর্তমান অবস্থার ১০টি বিষয় পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এনডিটিভি।
১. উদিপির মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল কলেজের সামনে জমায়েত হওয়া শিক্ষার্থীদের এই ভিড় সামলাতে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
২. কলেজ প্রশাসনের সামনেই গেরুয়া ওড়না পরিহিত শিক্ষার্থীরা জয় শ্রী রাম বলে স্লোগান দিচ্ছে।
৩. হিজাব পরিহিত নারীরা অভিযোগ জানিয়ে বলে, তাদেরকে কলেজ গেইটের সামনে থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যেটাকে তারা কলেজ প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব বলে উল্লেখ করে।
৪. হিজাব পরা এক তরুণী বলে, কেন আমাদেরকে ভেতরে যেতে দেওয়া হবে না? তারা এখন গেরুয়া কাপড় পরছে আর আমরা শৈশব থেকেই হিজাব পরছি। তারা আমাদের কলেজ গেইট থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। অন্যদিকে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় গেরুয়া ওড়না পরা শিক্ষার্থীদের গেইটের বাইরে বের করে দেয়ার চেষ্টা করে।
৫. এই হিজাব বনাম গেরুয়া ওড়নার বিক্ষোভ কর্ণাটকের অন্যান্য কলেজ ক্যাম্পাসের ছড়িয়ে পড়েছে। তাই কয়েকটি কলেজ এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এড়াতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, অন্যদিকে কয়েকটি কলেজে হিজাব পরা শিক্ষার্থীদের পৃথক শ্রেণিকক্ষে প্রেরণ করা হয়।
৬. হিজাব বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তুলে উদুপির একটি সরকারি কলেজের পাঁচ শিক্ষার্থীর করা মামলার আবেদনের শুনানি করবে হাইকোর্ট।
৭. এই হিজাব আন্দোলন শুরু হয় গত মাসে সরকারি গার্লস পিইউ কলেজে যখন কলেজটির ৬ জন ছাত্রী অভিযোগ করে যে হিজাব পরায় তাদের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। উদিপি এবং চিক্কামাগালুরুর ডানপন্থী দলগুলো মুসলিম নারীদের হিজাব পরার বিষয়ে আপত্তি জানায়।
৮. হিজাব আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে উদুপি এবং এর বাইরের অনেক কলেজে। যেখানে হিজাব নিষিদ্ধ করা তার বিপরীতে গেরুয়া ওড়না পরিধান করে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে অংশ নিতেও দেখা যায়।
৯. গত শনিবার বিজেপি সরকার একটি আদেশের মাধ্যমে যে সকল কাপড় ‘সমতা, অখণ্ডতা এবং জনশৃঙ্খলা’ ব্যাহত করে, যেসকল কাপড় নিষিদ্ধ করে।
১০. আদেশে আরও বলা হয়, কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা তাদের ধর্মীয় নীতি অনুসারে কাপড় পরিধান করছে যা সমতা এবং ঐক্য নষ্ট করছে।







