বদলি হিসেবে ৫৯ মিনিটে মাঠে নেমেছিলেন। দল তখন ১-০ গোলে এগিয়ে। সুপার সাব হিসেবে নামা সেই কাইলিয়ান এমবাপেই করে বসেন হ্যাটট্রিক। ৬১ থেকে ৮৩, এই ২২ মিনিটে তোলা তার ঝড়ে পিএসজি ৫-০তে জেতে ক্লাব ব্রুগের বিরুদ্ধে। শুধু হ্যাটট্রিক করাই নয়, সবচেয়ে কম বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৫ গোলও করেছেন তিনি।
এতোকিছু করেও অবশ্য স্বস্তিতে নেই এমবাপে। উল্টো স্বার্থপর, ব্যক্তিবাদী ও অহংকারী তকমা পেতে হয়েছে তাকে। সমালোচনার সময় তার তুলনা করতে গিয়ে টেনে আনা হয়েছে সতীর্থ নেইমারকে।
হ্যাটট্রিক করলেও চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে একটি ম্যাচেও শুরু থেকে খেলতে পারেননি এমবাপে। ফিটনেস সমস্যার কারণে তিন ম্যাচেই শুরুতে বেঞ্চে বসে থাকতে হয় তাকে। আর গত আগস্ট থেকে ছয় ম্যাচে এক মিনিটও খেলতে পারেননি।
বুধবার ম্যাচের পর এমবাপে বলেন, ‘বাকিরা আমাকে ছাড়া ভালো খেলেছে। তবে আমাকে নিজের জায়গাটা ধরে রাখার জন্য আরও ভালো খেলতে হবে। প্রায় দু’মাস হয়ে গেল একটাও পুরো ম্যাচ খেলিনি। আমার চোট নিয়ে এখন আর কোনো সমস্যা নেই। নতুন করে ফিরে আসতে পেরে ভালো লাগছে। এখন আমি সব ম্যাচ খেলতে চাই। আরও বেশি গোল চাই আমার।’
এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল। কিন্তু জট পাকায় তার পরের কথাগুলো। প্রথম মিনিট থেকে ম্যাচ শুরু করতে না পারায় তিনি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। বলেন, ‘আমি শুরু করতে চেয়েছিলাম। শুরু থেকেই খেলার কথা ভেবেছিলাম। তবে কোচের সিদ্ধান্ত আপনাকে মেনে নিতেই হবে। আমি আবার দেখাতে চেয়েছিলাম যে, আমাকে ছাড়া এটি (বড় জয়) করা কতটা কঠিন।’
এমবাপের ‘দেখাতে চাওয়া’ কথাটা ঠিকভাবে নিতে পারেননি ফ্রান্সের সাবেক তারকা ক্রিস্টোফ ডুগারি। বর্তমানে টেলিভিশন বিশ্লেষক ডুগারি এমবাপের এমন উপলব্ধি ও স্বার্থপর মনোভাবকে ক্লাবে তার ব্রাজিলিয়ান সতীর্থ নেইমারের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
১৯৯৮ বিশ্বকাপ ও ২০০০ সালের ইউরোজয়ী এই তারকা ফরাসি রেডিও স্টেশন আরএমসিকে বলেন, ‘এটা খুবই আনাড়ি কথা। আমি কিছুটা কষ্ট পাচ্ছি, তবে আমি চাই না যে, এমবাপেকে নিয়ে দেখা আমার স্বপ্নগুলো ভেঙে যাক। তারপরও বলছি, আমার মনে হয় সে নেইমারে পরিণত হচ্ছে। তার কথায় স্বার্থপরতা, ব্যক্তিবাদী ও অহংকারী দৃষ্টিভঙ্গি নিবদ্ধ।’







