চট্টগ্রাম থেকে: দুলকি চালে হেলেদুলে মাঠে নামলেন। চেহারা দেখতে অনেকটা ক্রিস গেইলের মতো। ক্রিকেটের গেইল ৪০ বছর বয়সেও ধরে রেখেছেন ঈর্ষণীয় ফিটনেস। আর ঘানা থেকে উড়িয়ে আনা এই ফুটবলার ৩৩ বছরেই বিশাল এক ভুঁড়ির মালিক! নাম প্রিন্স ট্যাগো। ২০১০ সালে ঘানার হয়ে বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার। কিন্তু হলে কী হবে। এ বয়সেই ফিটনেসের যা অবস্থা তাতে বিশ্বকাপ খেলা এক খেলোয়াড়কে মাঠে নামাতেও দ্বিধায় চট্টগ্রাম আবাহনী কোচ মারুফুল হক!
শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ উপলক্ষে এক ঝাঁক অভিজ্ঞ বিদেশি উড়িয়ে এনেছে টুর্নামেন্টের স্বাগতিক চট্টগ্রাম আবাহনী। অন্তত তিন বিদেশির আছে ইউরোপা লিগে খেলার অভিজ্ঞতা। আর চিন্দুমা ম্যাথিউ আগে থেকেই পরিচিত বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গে। খেলেন আরামবাগের হয়ে।
গ্রুপ ‘এ’তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসকে ৪-১ গোলে হারিয়ে শুভ যাত্রা করেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন চিন্দুমা ম্যাথিউ। আরেক গোল এসেছে মন্টেনেগ্রোর খেলোয়াড় রতকোভিচ লুকার থেকে। বিদেশিদের জ্বলে ওঠার ম্যাচে সংবাদ মাধ্যমের চোখ খুঁজে ফিরছিল আরেক বিদেশি প্রিন্স ট্যাগোকে। ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেসের পর শেখ কামাল টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ মানের খেলোয়াড় তিনি। অথচ, তাকে মাঠেই নামালেন না চট্টগ্রাম কোচ! বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা আছে অথচ এমন খেলোয়াড়কে কেনো বসিয়ে রাখলেন কোচ মারুফুল, সেই জিজ্ঞাসা ছিল অনেকের।
দলের হয়ে দ্বিতীয় অনুশীলনে নামার পরই আসলে বোঝা গেল কেনো ঘানা জাতীয় দলের হয়ে ৭ গোল করা ট্যাগোকে বসিয়ে রেখেছিলেন মারুফ। অনুশীলনের জন্য যে জার্সি বরাদ্দ তা বাকি সবার গায়ে ঠিকঠাক চেপে গেলেও ট্যাগোকে মনে হয়েছে মোটেও সুবিধা করতে পারছেন না একই জার্সিতে! বোঝাই গেল জার্সি তার গায়ে একদমই ফিট করছে না। কারণটা অবশ্যই সেই ভুঁড়ি। এক ভুঁড়ির কারণে জার্সি যেন অনেকটাই ছোট হয়ে গেছে!
কেবল জার্সিই নয়, চলনবলনে মোটেও ক্ষিপ্র নন ট্যাগো। বাকি সতীর্থরা যেখান বল পায়ে বেশ ছন্দে, তাকে মনে হচ্ছিল কেমন যেন অস্বস্তিতে ভুগছেন। সবার সঙ্গে হাল্কা অনুশীলন, স্ট্রেচিং করলেও মূল অনুশীলনে কেবল বল পায়ে শটই নিলেন। বাকিদের নিয়ে তখন মূল অনুশীলনে ব্যস্ত চট্টগ্রাম কোচ। ইয়ং এলিফ্যান্টসের বিপক্ষে পরের ম্যাচেও যে মূল একাদশে জায়গা হচ্ছে না বোঝা গেল তাতেই।
ক্রিকেটে খানিকটা মোটা হলেও মানদণ্ডে টিকে যেতে পারলে জাতীয় দলে খেলা অসম্ভব কিছু নয়। বাংলাদেশের আকরাম খান, আফগানিস্তানের মোহাম্মদ শাহজাদরা তাই বিশাল ভুঁড়ি নিয়েও স্বচ্ছন্দে চালিয়ে গেছেন নিজেদের ক্রিকেট ক্যারিয়ার।
কিন্তু ফুটবল গতির খেলা। ক্ষিপ্রতায় ডিফেন্ডারদের হারানোতেই একজন ফরোয়ার্ডের মুন্সিয়ানা। একজন ফুটবলারের যেমন ফিটনেস থাকা জরুরী, তেমনটা হারিয়ে বসেছেন ট্যাগো। ২০১০ সালের ঘানার সেই দলের ট্যাগোর সঙ্গে এই ট্যাগোর আকাশ পাতাল তফাত। সোনালী দিন তো দূরের কথা বাংলাদেশে রুপালি সময়টাও উপহার দিতে পারবেন কিনা সেটা বোঝা যেত মাঠে নামতে পারলে। ট্যাগোর যা অবস্থা তাতে কোচ তো বটেই সন্দিহান খোদ সতীর্থরাই।
কেমন দেখলেন প্রিন্স ট্যাগোকে? বাংলাদেশ ও শেখ কামাল টুর্নামেন্টে চট্টগ্রাম আবাহনীকে নেতৃত্ব দেয়া জামাল ভুঁইয়াকে এই প্রশ্ন করতেই হেসে দিলেন এক চোট। বললেন, ‘প্রিন্স তো বিশ্বকাপে খেলেছে। ইউরোপের অনেক ক্লাবেও খেলেছে। তবে এই মুহূর্তে ওর ফিটনেসের কী অবস্থা তা বলতে পারবো না।’
প্রায় একই কথা বললেন মারুফুল হকও। ট্যাগো ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়ে খেলবেন কিনা সেটা না জানা গেলেও আপাতত ক্লাব কাপের চলতি আসরে যে খেলছেন না সেটির ইঙ্গিত দিলেন তিনি, ‘সে এসেছে ম্যাচের একদিন আগে। আর ওর শরীরের যা ফিটনেস। সময় লাগবে।’
‘ওর খেলা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ওর খেলা বিশ্বকাপে দেখেছি। তবে ম্যাচ খেলার মতো ফিটনেস এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। আর টুর্নামেন্টে খেলা হবে কিনা সেটাও বলা যাচ্ছে না। হতে পারে আমরা ফাইনালে চলে গেলাম। সেক্ষেত্রে আমরা হয়তো ১০ দিন সময় পেলাম। হতে পারে এই সময়ের মধ্যেই খেলার মতো ফিটনেস চলে আসবে তার। হয়তো সেক্ষেত্রে খেলার সুযোগ পেতেও পারে।’








