দেখতে দেখতে শেষ হয়ে গেল রাশিয়া বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বও। প্রথমপর্ব শেষে ৩২ থেকে দল নেমে এসেছিল ১৬তে। দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বাড়ির পথ ধরেছে আরও ৮ দল। টিকে থাকা বাকি আট দলকে নিয়ে শুক্রবার থেকে শুরু হবে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই।
মোট ৬৪ ম্যাচের মধ্যে হয়ে গেছে ৫৬টি। প্রথম রাউন্ডের মতো জমজমাট লড়াই হয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডেও। এই ৫৬ ম্যাচে পরিসংখ্যান-রেকর্ড আর কী আলোচিত দেখে নেয়া যাক–
খেরোখাতা-
গ্রুপপর্বে সর্বোচ্চ পয়েন্ট- ৯। উরুগুয়ে, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া। তিন দলই টিকে আছে কোয়ার্টার পর্যন্ত।
সর্বোচ্চ গোলদাতা– হ্যারি কেন (ইংল্যান্ড), গোল সংখ্যা ৬। ৪টি করে গোল আছে পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকুর। লুকাকুর দল টিকে থাকায় সুযোগ থাকছে সংখ্যা বাড়ানোর। তবে ছিটকে গেছে রোনালদোর পর্তুগাল।
মোট গোল– ১৪৬টি।
ম্যাচপ্রতি গোল– ২.৬টি।
সবচেয়ে বেশি গোল দিয়েছে– বেলজিয়াম, ১২টি।
সবচেয়ে কম গোল দিয়েছে– পানামা, ১টি।
সবচেয়ে বেশি গোল হজম করা দল- পানামা, ১১টি।
সবচেয়ে কম গোল হজম করা দল- ব্রাজিল ও উরুগুয়ে। দুটি দলই নিজেদের জালে বল ঢুকতে দিয়েছে কেবল একবার করে।
পেনাল্টি থেকে সবচেয়ে বেশি গোল- ইংল্যান্ডের, ৩টি।
গোলমুখে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ- নেইমারের (ব্রাজিল), ২৪বার।
অন টার্গেটে সবচেয়ে বেশি শট- নেইমারের, ১২টি।
সতীর্থদের জন্য সবচেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করেছেন- নেইমার, ১৬বার।
সবচেয়ে বেশি আক্রমণ– স্পেনের, ২৮৮বার।
কোনো এক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোল- ৭টি। বেলজিয়াম-তিউনিসিয়া (গ্রুপপর্বে) এবং আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স (নক আউটে)।
কোনো এক ম্যাচে সর্বোচ্চসংখ্যক আক্রমণ– ৩১, বেলজিয়াম-তিউনিসিয়া।
সবচেয়ে বেশি দৌড়েছেন– ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন। ডেনমার্ক মিডফিল্ডার গ্রুপপর্ব ও দ্বিতীয় রাউন্ড মিলে দৌড়েছেন মোট ৫১ কিলোমিটার।
মোট পাসের সংখ্যা– ৪৩,১৩৯টি। ম্যাচ প্রতি যা ৭৭০টি।
সবচেয়ে বেশি পাস- স্পেনের। মোট ৩১২০টি।
সবচেয়ে বেশি সফল পাস দিয়েছেন- সার্জিও রামোস, ৪৮৫টি।
সবচেয়ে পাস দেখেছে– স্পেন-রাশিয়া ম্যাচ, ১২৩৫টি।
রক্ষণে সবচেয়ে সফল দল– রাশিয়া। মোট ১৯৬টি ট্যাকল ও সেভ করেছে দলটি।
প্রতিপক্ষকে সবচেয়ে বেশি গোল বঞ্চিত করেছেন– মেক্সিকান গোলরক্ষক গির্লেমো ওচোয়া, ২৫টি।
মোট হলুদ কার্ড– ১৮৯টি। ম্যাচ প্রতি যা ৩.৪টি।
মোট লাল কার্ড– ৪টি। ম্যাচ প্রতি গড়ে ০.০৭টি।
সবচেয়ে কার্ড দেখা দল- আর্জেন্টিনা ও পানামা, ১১টি।
সবচেয়ে কম কার্ড দেখা দল– উরুগুয়ে ও সৌদি আরব, মাত্র ১টি।
সবচেয়ে বেশি ফাউল করেছে- রাশিয়া, ৭০টি।
সবচেয়ে বেশি ফাউলের শিকার- নেইমার, ২৩বার।
যা রেকর্ড-
আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড- ১০বার।
পেনাল্টির রেকর্ড- ২৮টি। যার ৭টিতে স্পটকিকে গোল আসেনি।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়- এসাম এল-হাদারি। মিশর, ৪৫ বছর ১৬১ দিনে বিশ্বকাপে নামেন।
আন্তর্জাতিক ম্যাচে ইউরোপিয়ানদের মধ্যে সর্বোচ্চ গোল- ৮৫টি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল)।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক- ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ৩৩ বছর বয়সে!
বিশ্বকাপে টানা গোলের ম্যাচ- প্রথম ৩৬ ম্যাচের প্রতিটিতে গোল হয়েছে।
আরও যা-
বিশ্বকাপ ইতিহাসের ২৫০০তম গোলটি হয়েছে এই আসরে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে আত্মঘাতী গোল ৫০ ছুঁয়েছে এই আসরে।
হয়েছে বিশ্বকাপের ৫২তম হ্যাটট্রিক- হ্যারি কেন, পানামার বিপক্ষে।
গ্রুপপর্ব পদ্ধতি আসার পর জার্মানি প্রথমবার প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়েছে। ৮০ বছর আগে তারা যেবার শুরুতেই ছিটকে যায়, তখন ১৬ দলের বিশ্বকাপ শুরুতেই ছিল নক আউটের।
জাপান ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে ফেয়ার প্লের পয়েন্টে নক আউটে উঠেছে। আর সেনেগাল প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিয়েছে। জাপান পরে বেলজিয়ামের বিপক্ষে হেরে বিদায় নিয়েছে।
মিরোস্লাভ ক্লোসার পর টানা তিন হেডে গোল করার কীর্তি কলম্বিয়ার ইয়েরি মিনার। জার্মান ফরোয়ার্ড ক্লোসার কীর্তি বিশ্বকাপে টানা পাঁচ হেডে গোল করার।
১৯৩৯ সালে গড়া টমি লেওটনের পর দ্বিতীয় ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে টানা ম্যাচে ছয় গোল করলেন কেন। সেটাও আবার মাত্র তিন ম্যাচে!








