শেষরাতের তীব্র ভূমিকম্পটা সবার মনেই ভয় নিয়ে এসেছে। তবে ভূমিকম্প শেষে কাঁপন লেগেছে ফেসবুকেও। নানান জনে নানানভাবে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। চ্যানেল আই অনলাইন তাদের পাঠকের কাছে জানতে চেয়েছিলো ভূমিকম্পের সময়ের অনুভূতি। ফেসবুক ও ইমেইলে পাঠানো কিছু পাঠকের অভিজ্ঞতার অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে।
রাসেল নামের একজন লিখেন, ভূমিকম্পনের কম্পন ভোরে শেষ হলেও আমাদের মনের কম্পন তো এখনো শেষ হচ্ছে না। সত্যি কথা বলতে এর আগে এমন ভয়ংকর অবস্থা দেখিনি। ভয় পায়নি এমন কেউ জাগ্রত বান্দা ছিল না।
হঠাৎ ঘুম থেকে সজাগ হওয়ার পর মনে হলো কোনো দোলনায় দোল খাচ্ছি, দোল খাওয়া মজার ব্যাপার কিন্তু এটা তো পুরা লাইফ থ্রেটেনিং ব্যাপার হয়ে গেলো।
জহির খান রুবেল নামে একজন লিখেন, তখন আমি ঘুম থেকে জেগেছিলাম এবং ভাবলাম মনে হয় আমাকে জিনে ধরেছে এই জন্য বিছানা নড়ছে কারণ মাঝে মাঝে আমাকে জিনে ধরতো। আসলে সেটা যে ভূমিকম্প জাতীয় কিছু ছিল আমি বুঝতে পারিনি।
চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী সেনাবাহিনীতে চাকরিরত ইব্রাহীম খলিল লিখেছেন, প্রচণ্ড ঘুমের ভিতর দেখি আমার বিছানা খুব জোরে নড়াচড়া করছে। ভাবছি কেউ হয়তো নামাজ পড়তে ডাকছে। তারপর দেখি হঠাৎ রুমের সবাই ভূমিকম্প বলে চিল্লাচ্ছে আর ঘুমের ঘোরে নিচের দিকে দৌড়ে নামছে। আমি ও দৌড়ে চার তলা থেকে নিচে নেমে সাথে সাথে আমি আমার মা আর স্ত্রীর সাথে কথা বললাম। আমার একমাত্র ছেলে ইফাত ঘুমিয়ে থাকায় ওর সাথে কথা হয়নি তখন।
এস এম সোহেল লিখেন, আমি বালিশ থেকে মাথা উঁচু করে ব্যাপারটা বুঝার চেষ্টা করলাম, লাইট জ্বালালাম, তারপর স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে রুমের কোণায় পিলার এর সাথে ঘেসে দাঁড়ালাম, কারণ পাঁচ তলা থেকে তাড়াতাড়ি নামা যাবে না।
রেজাউল হাবিব নামে একজন লিখেছেন, ভুমিকম্পের সময় হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল। বাসার সবাইকে নাম ধরে ডাকতে থাকলাম এবং দোয়া পরতে থাকলাম। ছেলেরা ঘুম থেকে উঠতে উঠতে ভূমিকম্প শেষ। আমার বাসা ৬ তলায়। আশপাশে সমস্ত বাসার লোকজনের কথা বলার আওয়াজ শুনতে পেলাম। আল্লাহর রহমতে কোনো কিছুর ক্ষতি হয়নি ভেবে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে আবার শুয়ে পড়লাম।







