দেশের সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এরই ধারাবাহিকতায় আজ কয়েকটি জেলায় দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ হয়েছে। এতে একদিনেই সড়কে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর এলো।
চ্যানেল আইয়ের প্রতিবেদনে জানা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কমপক্ষে আরও ১৫-২০ জন আহত হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া টাঙ্গাইলের মধুপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শামীম নামের প্রান্তিক পরিবহনের এক চালকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুই বাসের অন্তপক্ষে পঁচিশ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে।
অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় দুলাভাইয়ের প্রাইভেটকার নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি খাদে পড়ে দুই যুবক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা অপর বন্ধু গুরুতর আহত হয়েছে। নিহত বন্ধুদের একজনের নাম জিসান (১৯) ও অন্যজন ফাহিম (১৯)।
একদিনে এ তিনটি দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ হয়েছে। বহু দুর্ঘটনার খবর সঙ্গত কারণেই গণমাধ্যমে আসে না। আড়ালে থেকে যায়। সেই হিসাবে প্রকৃত দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি। এর একটি চিত্র পাওয়া যায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পরিসংখ্যানে। সম্প্রতি তারা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ঈদযাত্রায় এবার সারা দেশে সড়ক-মহাসড়কে ৩৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৪১৬ জন, আহত হয়েছেন ৮৪৪ জন।
এছাড়া রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নামের এক সংগঠন বলেছে, ঈদুল ফিতরের আগে ও পরের ১৪ দিনে (২৫ এপ্রিল-৮ মে) সারাদেশে ২৮৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৫৬ জনই মোটরসাইকেল আরোহী ও চালক বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। যা মোট নিহতের সংখ্যার বিচারে ৪১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
আমরা মনে করি, সড়কে আইন না মানার প্রবণতা এবং আইন প্রয়োগের গাফিলতির কারণে প্রতিনিয়ত এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। ঝরে যাচ্ছে বহু প্রাণ। এজন্য সড়কে আইনের কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।








