তার ব্যাটিং প্রতিভা নিয়ে প্রশ্ন নেই কারও। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান করে যাচ্ছেন। পরিশ্রম করে শরীরের মেদ এতটাই কমিয়েছেন যা নজির সৃষ্টি করার মতো। এর সুফলও পাচ্ছেন শাহরিয়ার নাফীস। প্রিমিয়ার লিগ, বিপিএল, এনসিএল, বিসিএল সব জায়গাতেই রান করেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। লংগার ভার্সন, ওয়ানডে, টি-টুয়েন্টি তিন ফরম্যাটেই দেখিয়ে যাচ্ছেন সমান দক্ষতা। তারপরও বাংলাদেশ দলে ফেরা হচ্ছে না ৭৫ ওয়ানডে, ২৪ টেস্ট ও একটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলা নাফীসের। সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ২০১৩ সালের এপ্রিলে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে। তারপরও আশা হারাচ্ছেন না এই ক্রিকেটার। বিশ্বাস রাখছেন পারফর্ম করে গেলে একদিন সুখবর আসবেই।
দীর্ঘসময় অপেক্ষার পর ২০১৬ সালের অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজে প্রাথমিক দলে এসেছিলেন নাফীস। জায়গা হয়নি মূল দলে, ফেরা হয়নি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।
‘আমি খুবই বাস্তববাদী। দল হিসেবে বাংলাদেশ এই মুহূর্তে দারুণ খেলছে। এই মুহূর্তে দলে জায়গা করে নেয়াটা সহজ নয়, আমি যদি পারফর্ম করতে থাকি আর দলে যদি কখনও জায়গা খালি হয় তখন আমাকে বিবেচনা করা হবে এটা আমি বিশ্বাস করি, তো আমি পারফর্ম করে যেতে চাই।’ বলছিলেন নাফীস।
কিছুদিন পরই ৩১ পেরিয়ে ৩২ এ পা রাখবেন নাফীস। বয়স তো কম হলো না। এভাবে আর কত অপেক্ষা? নাফীস বললেন, ‘এটা খুবই কঠিন। সব চাইতে বড় চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে নিজেকে মোটিভেটেড রাখা। কারণ আমাদের দেশের যে সংস্কৃতি ওই অনুযায়ী সবাই জাতীয় দলকেই বড় জায়গা মনে করে এবং ওইটার জন্যই সবাই চিন্তা করে। আপনি যখন পারিপার্শ্বিক দিক থেকে কোন আলোচনা শুনবেন সবাই জাতীয় দলের কথাই বলবে। তো ওই রকম অবস্থায় যখন আপনি জাতীয় দলের বাইরে থাকবেন তখন কাজটা খুবই কঠিন। আমরা যদি পেশাদারির জায়গা থেকে ভাবি তাহলে আপনি যদি ভাল না করেন দলে জায়গা পাবেন না। আমি পেশাদার ক্রিকেটার। যে দলের জন্যই খেলি না কেন পারফর্ম করতে চাই। এ ব্যাপারটা যারা বুঝবে তাদের জন্য পারফর্ম করা সহজ হবে।’
কিছু অনুযোগের কথাও শোনালেন নাফীস, ‘‘আমরা যারা দলের বাইরে আছি তারা তো ‘এ’ টিমে থাকতে পারি। এমন সময় ‘এ’ টিমের ট্যুর হওয়া উচিত যখন কিনা ঘরোয়া লিগের কোনো খেলা থাকে না। জাতীয় দলের বাইরে এমন অনেক ক্রিকেটার আছেন যারা দেশকে সার্ভিস দিতে পারবে।’’
ওপেনার হিসেবে স্বীকৃত ব্যাটসম্যান নাফীস। বিপিএল, এনসিএল ও বিসিএলে দলের ব্যাটিং অর্ডারে ভারসাম্য রক্ষায় বিভিন্ন পজিশনে ব্যাট করেছেন। অভিজ্ঞতা আছে নতুন বল, পুরনো বলে ব্যাটিং করার। জাতীয় দলে সুযোগ এলে যে কোনো জায়গায় ব্যাট করার জন্যই প্রস্তুত এই ক্রিকেটার, ‘আমি যতদিন ধরে খেলছি এবং যতটুকু অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে সব ধরণের বল খেলেই আমি অভ্যস্ত এবং প্রস্তুত। আমি যদি রান করতে থাকি, তাহলে সুযোগ তৈরি করা সহজ হবে।’
৭ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন নাফীস। নিজ উদ্যোগে মিরপুর একাডেমি মাঠে নিয়মিত রানিং, জিম করছেন। ব্রাদার্স ছেড়ে প্রাইম দোলেশ্বরে নাম লিখিয়েছেন। প্রিমিয়ার লিগের লক্ষ্য নিয়ে বললেন, ‘বিসিএল শেষ হওয়ার পর সপ্তাহখানেক বিশ্রাম নিয়েছি। তারপর এখন কাজ শুরু করেছি। মূলত প্রথম একটা সপ্তাহ ফিটনেস ট্রেনিং করছি। রানিং, করছি। জিম করছি। আগামী সপ্তাহ থেকে স্কিল ট্রেনিংয়ের কাজ করবো। প্রাইম দোলেশ্বরের গত তিন-চার বছরের রেকর্ড খুব ভালো। ব্যক্তিগতভাবে ওইরকম পারফরম্যান্স করতে চাই যাতে আমার দল ধারাবাহিকভাবে যে পজিশন পেয়ে আসছে তেমনটাই পায়। বিশ্বাস করি প্রাইম দোলেশ্বর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই খেলবে।’








