ইরানের বিক্ষোভের পেছনে ইন্ধন জুগিয়েছে অভিজাত তরুণ-তরুণীরা! জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুরু হয় এই বিক্ষোভ। দরিদ্র জনগোষ্ঠী ক্ষিপ্ত হয়েছে অত্যধিক আভিজাত্যের উৎকট প্রদর্শনীতে।
মার্কিন গণমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডার-এর এক প্রতিবেদনে বিষয়টিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
বিক্ষোভের পেছনে বিদেশী শক্তিকে দায়ী করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের জোরালো অভিযোগ। ইরানে সরকার সমর্থনে এক সমাবেশে আমেরিকা, ইসরায়েল ও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে শ্লোগান উঠে।
সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেওয়া এই বিক্ষোভ এখন অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে শুরু হওয়া বিক্ষোভে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনির ছবিও পোড়ানো হয়।
বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ২২ জন লোক নিহত হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ১ হাজার ৭শ জনকে, যার মধ্যে অন্তত ৯০ জন ছাত্র।

“তেহরানের ব্যস্ত রাস্তায় জনাকীর্ণ বাস, জীর্ণ গাড়ির পাশ দিয়ে যখন বিলাসবহুল গাড়ি ছুটে যায়, তখন পথচারীরা কখনো গালাগালি করে, অভিশাপ ছুঁড়ে দেয়।” লস অ্যাঞ্জেলস টাইমসে এমনটি লিখেন শশাঙ্ক বেঙ্গালি ও রামিন মোস্তাঘিম।
ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ‘রিচ কিডস অব তেহরান’ এর কথাও উঠে আসে প্রতিবেদনটিতে। যেখানে নিজেদের ‘উৎকট’ বিলাসিতার প্রদর্শনী চালায় অভিজাতরা। অথচ তেহরানের রাস্তাতেই দেখা যায় কিডনি বিক্রির বিজ্ঞাপন।
ইরানি সাংবাদিক আমির আহমাদি আরিয়ান নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক উপ-সম্পাদকীয়তে লিখেছেন, দরিদ্রদের সামনে দিয়ে অশ্লীলভাবে তেহরানের রাস্তায় পোর্শে ও মার্সেডিজ চলে।
গত দশক থেকে এই অসমতা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি একটি হিসাবি বাজেট ঘোষণা করলে তা অনেকটাই চূড়ান্ত রূপ নেয়।

বিক্ষোভ দমনের ইঙ্গিত দিয়ে দু’দিন আগেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলি জাফারি বলেন, ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার’ পরাজয় হয়েছে। বিভিন্ন প্রদেশে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে পাঠানোর পরই বিক্ষোভ কমে আসতে শুরু করে।
রোববার ইরানের কয়েকটি শহরে সরকারের সমর্থনেও সমাবেশ হয়, যাতে হাজার হাজার লোক অংশ নেয়। তারা আমেরিকা , ইসরায়েল ও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়।
বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান বলেন, ‘সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন-ঘোষিত দাঙ্গা, ষড়যন্ত্র এবং অরাজকতা সৃষ্টিকারী শক্তিরা এবং প্রতিবিপ্লবী ও শাহ-পন্থীরা’ এর জন্য দায়ী। তার কথায় এই শত্রুরা ‘ইসলামি ইরানের প্রতি সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা হুমকি’ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল।
ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের কাছে শক্ত প্রমাণ আছে যে বিক্ষোভকারীদের ‘বিদেশ থেকে’ নির্দেশ দেয়া হচ্ছিল।
ইরানের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদকে জড়িত করতে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতার নিন্দা করেছে রাশিয়া।







