রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে রেজাউল হাসান শাকিল হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি আরাফাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। ইয়াবার টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরেই শাকিলকে হত্যা করে আরাফাত।
বুধবার ভোরে নিকেতন এলাকা থেকে শাকিল খুনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরাফাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আরাফাত ও শাকিলের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল। বিভিন্ন কারণে তাদের টাকার লেনদেন ছিল। ইয়াবার কিছু টাকা শাকিলের কাছে পাওনা ছিল আরাফাত। পরে এ টাকা দিতে অপারগতা জানায় শাকিল। এতেই শাকিলকে হত্যার পরিকল্পনা করে আরাফাত।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার রাতে শাকিলকে অনেকগুলো বিয়ার খাওয়ায় আরাফাত। পরে শাকিলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আরাফাত।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার নিকেতনে একটি বিজ্ঞপনী সংস্থার অফিসে খুন হন শাকিল। ওই সংস্থায় সে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করত। নিহত শাকিলের বাড়ি টাঙ্গাইলের কোনাবাড়িতে।
হত্যাকাণ্ডের পর শাকিলকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে তার বাবার কাছে মুঠোফোনে দুই লাখ টাকা দাবি করে আরাফাত। পরে মুক্তিপণের টাকা দাবির বিষয়টি শাকিলের বাবা মিলন মিয়া গুলশান থানায় জানায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাকিলকে খুনের কথা স্বীকার করে আরাফাত। শাকিলের বাবার দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় আরাফাতকে আদালতে পাঠানো হয়েছে, সেখানে সে ১৬৪ ধারায় হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশের পক্ষ থেকে মুক্তিপণ দাবি করা ব্যক্তিকে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কৌশলে শাকিলের অফিসের কাছে আসতে বলা হয়েছিল। সারাদিন কেউ টাকা নিতে না আসায় সন্ধ্যায় অফিসের দরজা ভেঙে ভেতর থেকে শাকিলের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শাকিলের গলা ও হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।







