ভারতের আসামে নাগরিক তালিকা প্রকাশের পর ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস বা এনআরসির ওয়েবসাইট ক্রাশ করেছে।
এনডিটিভি জানায়, শনিবার সকাল ১০টার পরপরই এনআরসি প্রকাশ হয়। এতে ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন আবেদনকারীকে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে দিয়ে আসামের বিপুল সংখ্যাক মানুষ ভারতের নাগরিকত্ব হারালেন। ওই তালিকায় চূড়ান্তভাবে ঠাঁই হয়েছে ৩ কোটি ১১ লাখ লোকের।
তালিকা প্রকাশের এক ঘণ্টার মধ্যে এনআরসির ওয়েবসাইট ক্রাশ করে। নাম খুঁজতে প্রচুর মানুষ একই সঙ্গে ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করায় এমনটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আসামে ৩ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার বসবাস। যাদের নাম বাদ পড়বে তারা এখনই বিদেশি গণ্য হবেন না বলে জানিয়েছে রাজ্যের গৃহ মন্ত্রণালয়। বাদ পড়া লোকজন আপিলের জন্য ৬০ থেকে ১২০ দিন সময় পাবেন।
আপিল আবেদনের শুনানির জন্য রাজ্যে কমপক্ষে ১ হাজার ট্রাইবুনাল গঠন করা হবে। এরই মধ্যে ১শ’ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। ট্রাইবুনালে হেরে গেলে যে কেউ উচ্চ আদালতে যেতে পারবেন।
বাংলাদেশ থেকে আসা তথাকথিত অবৈধ অভিবাসীদের ইস্যুটি কোনও নতুন ঘটনা নয়। আসামের ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস বা এনআরসির প্রথম তালিকাটি প্রকাশিত হয় ১৯৫১ সালে। সেটা ছিল ভারত ভাগের চার বছর পর। সে সময় তৎকালীন পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অংশ হওয়ার পর লাখ লাখ মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বিপুলসংখ্যক মুসলমানদের আগমন হিন্দুপ্রধান আসামের জনসংখ্যার ভারসাম্যকে বদলে দিতে পারে এই আশঙ্কায় সেখানকার অসমীয়া জাতীয়তাবাদী দলগুলো আন্দোলন শুরু করে এবং নাগরিকত্বের প্রথম তালিকাটি তৈরি হয়।
এই সমস্যা আবার দেখা দেয় ১৯৭০-এর দশকে যখন বাংলাদেশে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে আন্দোলন শুরু হয়। সে সময় লাখ লাখ মানুষ পালিয়ে ভারতে চলে যায়। তাদের একাংশ আসামে আশ্রয় নেয়।
অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু) ১৯৭৯ সালে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। ১৯৮৩ সালে এই আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়। ওই সহিংসতায় দুই হাজার সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসী প্রাণ হারান। তাদের বেশিরভাগই ছিলেন মুসলমান।
আসু এবং কয়েকটি আঞ্চলিক দল এই প্রশ্নে শেষপর্যন্ত ১৯৮৫ সালে রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে একটা চুক্তিতে আসে। চুক্তিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে থেকে আসামের বাসিন্দা কেউ এমনটা প্রমাণ করতে না পারলে তাকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে এবং তাকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এনআরসিতে যাদের নাম রয়েছে তারা প্রমাণ করতে পেরেছেন যে তারা ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে আসামে এসেছিলেন। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য রাজ্যের সব অধিবাসীকে তাদের জমির দলিল, ভোটার আইডি এবং পাসপোর্টসহ নানা ধরনের প্রমাণপত্র দাখিল করতে হয়েছিল।
যারা ১৯৭১ সালের পর জন্মগ্রহণ করেছেন তাদের প্রমাণ করতে হয়েছে যে তাদের বাবা-মা ওই তারিখের আগে থেকেই আসামের বাসিন্দা।
খসড়া তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যের মোট তিন কোটি ২৯ লাখ বাসিন্দা তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে সমর্থ হন।








