মন্ত্রিসভার ছোট সম্প্রসারণ আর রদবদলের এক সপ্তাহের মাথায়ও মন্ত্রণালয়গুলোর ওয়েবসাইটে তার প্রতিফলন কম। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সাইটে ওই মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রতিমন্ত্রীর নামই উঠেনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হওয়া আসাদুজ্জামান খাঁনকে এখনও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখানো হচ্ছে। ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাইটে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তারানা হালিমের নাম উঠলেও তার কোনো ছবি খুঁজে পায়নি মন্ত্রণালয়। আর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে দেখানো হলেও ওয়েবসাইটে তার উপরে প্রধানমন্ত্রীর নামও আছে।
তবে এলজিআরডি মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট নতুন মন্ত্রীদের নাম পরিবর্তন করে আপডেট করা হয়েছে। আপডেট হয়েছে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সাইটও।
১৪ জুলাই খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন নুরুজ্জামান আহমেদ। মন্ত্রণালয়ে বসার জায়গা না পাওয়ার মতো ওয়েসবাইটেও তার কোনো অস্তিত্ব নেই। সাইটে তার নাম বা ছবি কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে ওই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সুমন মেহেদী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘আপনি ভাল পয়েন্ট ধরেছেন। ঈদে সবাই ছুটিতে ছিলেন। এজন্য আপডেট করতে পারেননি। আমি আগামীতে জানাব।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, আসাদুজ্জামান খাঁনের নাম এখনও প্রতিমন্ত্রী হিসেবেই আছে। অথচ এক সপ্তাহ আগে পদোন্নতি পেয়ে তিনি পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের কেউ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি।
একইভাবে ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কেউ ওয়েবসাইট নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান নি। এই সাইট দেখভাল করার দায়িত্বপ্রাপ্তরা অবশ্য একেবারে বসে নেই। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তারানা হালিমের নাম তারা সাইটে দিয়েছেন। তবে তার কোনো ছবি সেখানে নেই।
আর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজের হাতে থাকলেও গত বৃহস্পতিবার সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার নাম মন্ত্রণালয়ের সাইটে এসেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আর ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত না হওয়ার পরও তার নামও আছে সেখানে।
সরকার যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের কথা বলছে, তখন মন্ত্রণালয়গুলোর সাইটের এরকম অবস্থা প্রসঙ্গে আইসিটি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বার চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: যারা এ তথ্য বাতায়নের কাজ করছেন দায় তাদের, তারা ঠিকমতো কাজ না করলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হবেই।
দেশে ২৫ হাজার ওয়েবসাইট তৈরি করা হলেও সে পরিমাণ জনবল তৈরি করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু ওয়েবসাইট করে ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছি এমন ভাবলে চলবে না। এজন্য দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে। তা না হলে আমাদের ডিজিটাল হবার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।
গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় নতুন করে যোগ হয়েছেন এক মন্ত্রী এবং দুই প্রতিমন্ত্রী। আর দুই প্রতিমন্ত্রীকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়েছে।
মন্ত্রী হিসেবে নুরুল ইসলাম বিএসসি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। আগের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেই আছেন ইয়াফেস ওসমান এবং আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
আর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফকে প্রথমে দপ্তরবিহীন করা হলেও পরে তাকে দেওয়া হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
এছাড়া তারানা হালিমকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং নুরুজ্জামান আহমেদকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়।







