মুসলিম-ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের জন্য পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের প্রবেশ মুখে ক্যামেরা বসিয়েছে ইসরায়েল। তবে ক্যামেরা বসানোর ব্যাপারে ফিলিস্তিনিদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।
মুসলমানদের কাছে হারাম আল-শরিফ এবং ইহুদিদের কাছে টেম্পেল মাউন্ট নামে পরিচিত পবিত্র এই জায়গাটিতে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উত্তেজনা ও বিক্ষোভের মধ্যেই সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হলো।
এর আগে এক হামলায় দু’জন ইসরায়েলি পুলিশ নিহত হওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়া হয়। এর অংশ হিসেবে ইসরায়েল আল-আকসা মসজিদে ঢোকার পথে মেটাল ডিটেক্টর বসায় এবং ৫০ বছরের কম বয়ষ্কদের সেখানে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পবিত্র স্থানটির ওপর ‘দখলদার ইসরায়েলিদের আরো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টায়’ ক্ষুদ্ধ ফিলিস্তিনি মুসলিমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করে।
পূর্ব জেরুজালেমের বাসিন্দা আয়াত আবু লিদবাহ বলছেন, এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে মুসলিমদের এখানে নামাজ পড়ায় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। মেটাল ডিটেক্টর গেটগুলোর ব্যাপারে তিনি বলেন, “এসব গেট আমাদের ধর্মের ওপর প্রভাব ফেলছে। এটা একটা পবিত্র জায়গা এবং সে কারণেই এগুলো সরিয়ে ফেলা উচিত। আমরা এখানে আল্লার কাছে প্রার্থনা করতে যাই , এখানে প্রবেশে বিরত রাখার জন্য কোন গেট থাকা উচিত নয়।”
এই ইলেকট্রনিক গেট বসানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে যে উত্তেজনা দানা বেঁধেছিল তার চূড়ান্ত রূপ পায় শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে। দুই তরফের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে তিন জন ইসরায়েলি।
এর পর ইসরায়েলের মনোভাবে একটা পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়। একজন উর্ধতন ইসরায়েলি কর্মকর্তা মুসলিম বিশ্বের প্রতি বিকল্প নিরাপত্তা পদক্ষেপ কী হতে পারে তার প্রস্তাব দেবার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এগুলো ইসরায়েল বিবেচনা করবে। এখন ওই এলাকায় নতুন নিরাপত্তা ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমেও আভাস দেয়া হচ্ছে এর ফলে হয়তো মেটাল ডিটেক্টর সরিয়ে নেয়া সম্ভব হতে পারে।








