‘আব্বুকে খুব মনে পড়ছে। আব্বুর স্বপ্ন ছিল, তার মেয়ে বড় শিল্পী হবে, সুনাম করবে। তিনি বলতেন, সবাইকে বলব, আমার নাম তিশার বাবা!’ গতকাল বুধবার নিজের ফেসবুক পেজে লিখেছেন ছোট ও বড় পর্দার জনপ্রিয় তারকা নুসরাত ইমরোজ তিশা।
বাবার কথা স্মরণ করে তিশা লিখেছেন, ‘ছোটবেলা থেকেই সারাক্ষণ আব্বুর এই কথাগুলো শুনতে শুনতে এক সময় বিশ্বাস করতে শুরু করলাম, আমি পারব! আজ আমি বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি, পাচ্ছি। আমার আব্বু এই পর্যন্ত দেখলেই খুশিতে কেঁদে দিতেন।’
‘ডুব’ ছবিতে অভিনয় করেছেন তিশা। ছবিটি রাশিয়ার ৩৯তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘কমেরসান্ত জুরি প্রাইজ’ পেয়েছে । গত ২৯ জুন মস্কোর অক্টোবর সিনেমা হলে ছবির পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন রুশ চলচিত্র সমালোচক আন্দ্রেই প্লাখোব।
মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ডুব’ ছবিটি বাংলাদেশে মুক্তির অনুমতি পায়নি এখনো। তবে প্রশংসা পাচ্ছে বিদেশের মাটিতে। ‘২০তম সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’ ও ‘৩৯তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’ মাতিয়ে এবার ‘হলিউড রিপোর্টার’ আর ‘স্ক্রিন ডেইলি’র প্রশংসা পেয়েছে ‘ডুব’। হলিউড রিপোর্টারে পুরো ছবিটির রিভিউ দেওয়া হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, ইরফান খানের অভিনয়ের দক্ষতার জন্য ‘ডুব’ সিনেমাটি দর্শককে আকৃষ্ট করবে। বাংলাদেশি নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এ সিনেমায় অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সূক্ষ্ম কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন দর্শকের সামনে, যা এই ছবিকে করে তুলেছে প্রাণবন্ত ও বাস্তবধর্মী। তিশার অভিনয়েরও বেশ প্রশংসা করা হয়েছে।

তিশা লিখেছেন, ‘আমার কাজের প্রশংসা করে এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দুটি পত্রিকা (দ্য হলিউড রিপোর্টার ও স্ক্রিন ডেইলি) অসাধারণ রিভিউ লিখেছে। এর আগে ভ্যারাইটি পত্রিকায় আমার কাজের প্রশংসা করে লিখেছিল। বাংলাদেশের একজন অভিনয়শিল্পীর জন্য তা বিরল, অভাবনীয়। এত বড় আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম থেকে আমাদের শিল্পীদের কাজ নিয়ে প্রশংসা বের হবে, এটা এখনো ভাবা যায় না! আমি খুব কল্পনা করার চেষ্টা করছি, এই দুটি রিভিউ পড়লে আব্বু ঘরে ঢুকে কীভাবে তার ভালো লাগাটা বোঝাতেন! আব্বু কি কেঁদে দিতেন, মিটিমিটি হাসতেন?’
তিশার বাবা ২০০৩ সালে মারা গেছেন। প্রয়াত বাবাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিশা লিখেছেন, ‘আমি জানি, আব্বু সবকিছু দেখছে। এমনকি প্রতিদিন নামাজের পর আমি যে আব্বুর জন্য দোয়া করি, সেটাও তিনি শুনতে পান।’
হলিউড রিপোর্টারের রিভিউতে বলা হয়েছে, ‘ডুব’ ছবির কাহিনী একজন মধ্যবয়স্ক স্বনামধন্য চলচ্চিত্র নির্মাতাকে নিয়ে। ছবিতে নির্মাতা তার স্ত্রীকে ছেড়ে মেয়ের সহপাঠীকে বিয়ে করেন। ঢাকার মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের সম্পর্কের টানাপড়েনকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছবিতে। হলিউড রিপোর্টারে আরও বলা হয়েছে যে, ফারুকীর ‘টেলিভিশন’ এবং ‘পিঁপড়াবিদ্যা’র ছবি দুটোর তুলনায় একদম আলাদা এই ছবিটি। ছবির ভিজ্যুয়াল স্টাইল এবং কাহিনীর গভীরতা মস্তিষ্কে নাড়া দেবে।









