রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিজ আইনজীবীর বাসা থেকে বাসায় ফেরার পথে অপহৃত হয়েছিলেন ব্যবসায়ী মমিন বক্স। অপহরণের ৪ দিন পর পল্লবীর উত্তর কালশী থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। আইনজীবী ও তার স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশ পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
নিহতের স্বজনরা জানান, মামলা নিয়ে কথা বলার জন্য গত ৮ জুলাই সকালে মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে এডভোকেট মতিউর রহমানের চেম্বারে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে বের হয়ে নিজের প্রাইভেট কারে উঠার আগেই তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
মমিন বক্সের আইনজীবী এডভোকেট মতিউর রহমান টেলিফোনে বলেন, সে গাড়ীতে চলে যাবে এমন সময় ওদের গাড়ি এসে মমিনকে তুলে নিয়ে যায়। যে ফিজিক (শারীরিক গঠন) তাদের; তা আইন শৃংখলা বাহিনীর ছাড়া আর কারো হতে পারে না।
১২ জুলাই সকালে পল্লবী কালশী ব্রীজের কাছে অপহৃত ব্যবসায়ী মমিন বক্সের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তার স্ত্রী নার্গিস আক্তার জানিয়েছেন, ‘সিলভার কালারের গাড়িতে নিয়ে গেছে। ওদের জিজ্ঞাসা করা হয় আপনারা কে। তারা বলে, ডিবির লোক। তখন উনি আর কিছু বলেননি। কিন্তু কোথায় নিয়ে গেছে তা বলতে পারি না। কয়েক ঘন্টা পরে ড্রাইভারকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে গেছে।’
প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে বাইরের কেউ এর সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করছেন মমিন বক্সের স্ত্রী।
মমিন বক্সকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানা পুলিশের সহযোগিতা চাইলেও তৎপরতা দেখায়নি তারা। লাশ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা নেয় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, অপহরণের ঘটনা এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন তারা।
তেজগাঁও এলাকার ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, মামলার পর মমিন বক্সের পরিবার যাদের সন্দেহ করে বা যাদের আসামি করেছে তাদের মধ্যে ২জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার রহস্য উন্মোচনের জন্য তদন্ত কাজ এখনো চলছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় যেই জড়িত থাক না কেন তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক বৃদ্ধ মা। কারা এবং কোনো অপরাধে তার ছেলেকে তুলে নিয়ে গিয়ে এভাবে হত্যা করলো সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজে বেরাচ্ছেন তিনি।






