বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রধানরা দৃঢ় আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই সরকার গঠন করবেন।
বুধবার বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এ কথা বলেন তারা।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন, ‘সার্বিকভাবে সকলেই আশা প্রকাশ করেছেন, বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নেতৃত্বে বহাল থাকবেন।’
সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী বুধবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরের দ্বিপাক্ষিক সভাকক্ষে পৃথকভাবে এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্স্টি কালিজুলাইদ, ইউএন হাইকমিশনার ফর রিফিউজিস (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপো গ্রান্দি, ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর, মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিন শ্র্যানার বার্গনার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র এবং নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি ফেদেরিকা মঘেরিনির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
পাশাপাশি তিনি এদিন জলবায়ু সংক্রান্ত প্যারিস চুক্তি ‘সিওপি-২৪’ বাস্তবায়ন বিষয়ে সদস্যদের উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বৈঠকে এই প্রতিনিধিরা বলেন, ‘আমরা আবারও আপনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমাদের মাঝে পাবো।’
শহীদুল হক বলেন, শেখ হাসিনার সময়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভূমিকা, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ঐক্য-সংহতির কথা বিবেচনা করেই বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান এবং আর্ন্তজাতিক সংস্থাগুলো এই আশা প্রকাশ করেন।
তারা মনে করছেন, আগামী বছরও তারা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার সঙ্গে তারা দেখা করতে পারবেন, যোগ করেন পররাষ্ট্র সচিব।
রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আশা, বাংলাদেশে গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন দুই-ই একযোগে চলবে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, তারা আরও আশা প্রকাশ করেন যে, গণতন্ত্রের পথে যে যাত্রা প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে শুরু করেছেন তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক হবে এবং দেশে বিদ্যমান গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশে বিদ্যমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সমস্যা তুলে ধরে মিয়ানমার যাতে তাদের নাগরিকদের নিজ দেশে দ্রুততার সঙ্গে ফেরত নেয় সেজন্য তাদের প্রতি চাপ বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান বাংলাদেশে নেই, বরং মিয়ানমার সরকারকেই এই সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। এজন্য রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে হবে এবং তাদের নিজস্ব অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা নিজের মাতৃভূমিতে ফেরত যাচ্ছে সেই সময়টায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য নিয়ে তাদের দেখাশোনা করবে।
ক্রিস্টিন শ্র্যানার বার্গনার প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তিনি রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার দু’টি দেশই সফর করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে নিজ মাতৃভূমিতে ফেরত যেতে পারে সেজন্য রাখাইন রাজ্যে একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য তিনি মিয়ানমারকে বোঝাতে সক্ষম হবেন। এই সমস্যার সমাধানে তিনি আবার বাংলাদেশ সফরে আসবেন বলেও জানান।
রাষ্ট্রপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক অগ্রগতিরও ভূয়সী প্রশংসা করেন।







