কবি আহসান হাবীবের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ফেসবুক পোস্টে পিতাকে স্মরণ করেছেন পুত্র মঈনুল আহসান সাবের।
সাবের লিখেছেন: আমার জন্ম এখনকার পুরনো ঢাকায়। যে সময়ের কথা বলছি, ৫০ এর শেষদিকে, পুরনো ঢাকা তখন এতটা পুরনো হয়ে ওঠেনি। থাকতাম বংশাল, মাহুতটুলি, আরমানিটোলা। আমার কিছুই মনে নেই ওসময়ের কথা। পরে গল্প শুনেছি আম্মী আর বড় বোনের মুখে।
দেশের অন্যতম কথাসাহিত্যিক লিখেছেন: সেসময়ে আব্বা কেমন ছিল, আমাকে কোলে নিয়ে ঘুরত কি ঘুরত না, অনেক বা অল্প গল্প করত কি করত না, মনে নেই। আব্বার কথা মনে আছে, আমরা যখন গোপিবাগ চলে এলাম, তখন থেকে। তবে সম্পর্ক গাঢ় হওয়ার বয়স তখনও আমার হয়নি। তবে টুকরো টুকরো মজার স্মৃতি অনেক।
‘আব্বার সঙ্গে সম্পর্ক গাঢ় হতে শুরু করল আমরা তখনকার আয়ুব গেইট নিউ কলোনীতে চলে আসার পর। তখন আমিও একটু একটু করে বড় হচ্ছি। হাজারটা দুষ্টুমি, হাজারটা অনিয়ম, লেখাপড়ায় দেড় হাজারটা ফাঁকিবাজি, কলোনির প্রতিপক্ষ দলটির সঙ্গে মারামারি, একবার রান্নাঘর থেকে বটি হাতে বেরিয়ে পড়া একজনকে কেটে ফেলব বলে, এই এতসবকিছুর পরও নিজের অজান্তে জীবনের বহু দরজা তখন ধীরে ধীরে খুলে যাচ্ছে। তার সন্তানদের জন্য কিনে রাখা বই তখন উঠে এসেছে হাতে। আমি পড়ছি আর দেখছি। পড়ছি আর বহুদূর পর্যন্ত দেখছি। আরেকবার, মনে আছে, এক বিকালে আব্বা আমাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। কখনো ট্যাক্সি কখনো রিকশা। আমরা দুজন এগোই আর আব্বা আমাকে চিনিয়ে দেন, এটা নিউ মার্কেট, এটা হাইকোর্ট, এটা গুলিস্তান, এটা নওয়াবপুর। বিস্মিত আমার সেটা ছিল আব্বার হাত ধরে চিনে নেওয়া। যে শহরে আমি বড় হয়ে উঠব, সে শহর চিনে নেওয়া। এ যেন মানুষ আর জীবন চিনে নেওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি, আব্বার হাত ধরে,’ এভাবে বাবার কথা বলেছেন ছেলে মঈনুল আহসান সাবের।
তিনি লিখেছেন: তারপর আব্বার হাত ধরে আরও কত দেখা হলো। জীবন ছোট, তাই আরও কিছু দেখা হলোও না। তবে আব্বার হাত থেকে গেল। আমার বয়স যখন ২৮, তখন তার মৃত্যু। তারপর ৩০ বছর গেছে। তাকে পাওয়ার চেয়ে না পাওয়ার সময় দীর্ঘ। কিন্তু পাই কি না?
‘জীবনে কত সীমাবদ্ধতা কত গ্লানি কত অপ্রাপ্তি কত অপমান! এ সমাজ কত ব্যবস্থা করে রেখেছে মানুষকে নত আর ছোট করে দেওয়ার। এসব সময়ে মাঝেমাঝে বড় নুয়ে পড়ি। তখন কেউ বুঝি টেনে তোলে আলতো হাতে। কে? আব্বা? আমি জিজ্ঞেস করি, আব্বা, তুমি? উত্তর আসে, হ্যাঁ রে। নে, ওঠ এবার। সোজা হয়ে।’
পোস্টটি সাবের শেষ করেছেন এভাবে: আজ আব্বার শরীরত্যাগী হওয়ার ৩০ বছর হলো।







