সৌদি আরবসহ চার দেশের অবরোধ প্রত্যাহারে কাতারকে দেয়া শর্তগুলো ‘অযৌক্তিক এবং প্রয়োগযোগ্য নয়’ বলে অভিহিত করেছে কাতার। তাই অবরোধ তুলে নিতে ওই চার দেশের দেয়া ১৩ শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী।
শর্তগুলোর মধ্যে প্রধান হলো কাতার সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত আল-জাজিরা টিভির সম্প্রচার বন্ধ করা। তবে কাতারভিত্তিক সম্প্রচার মাধ্যম আল জাজিরা একে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর আঘাত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
এক বিবৃতিতে আল জাজিরা দৃঢ়ভাবে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করে কোন সরকার বা কর্তৃপক্ষের চাপের কাছে নত না হয়ে পেশাদারিত্বের সাথে সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে।
কাতারকে দেয়া অন্য শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন, কাতারে থাকা এই চার দেশের ওয়ান্টেড সন্ত্রাসীদের হস্তান্তর, যুক্তরাষ্ট্রের চিহ্নিত চরমপন্থী ব্যক্তি বা দলকে অর্থায়ান বন্ধ, আর্থিক ক্ষতিপূরণ করা, আইএস, আল-কায়েদা এবং হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন, ১০ দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক হ্রাস ও তুরস্কের একটি সামরিক ঘাঁটি বন্ধ, আরাবি ২১ এবং মিডল ইস্ট আই সহ অন্য কিছু সংবাদমাধ্যমেও তহবিল বন্ধের বিষয়।
ওই দেশগুলো শুক্রবার এই শর্তগুলোর তালিকা কাতারকে দিয়ে আগামী ১০ দিনের মধ্যে তা পূরণের শর্ত দেয়।
কাতার সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই দাবিগুলো পর্যালোচনা করছে সরকার।
কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরাহমান আল-থানি আল-জাজিরাকে বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবরোধকারী দেশগুলোর কাছে ‘যুক্তিসম্মত ও প্রয়োগযোগ্য’ দাবির তালিকা উত্থাপনের কথা বলেছেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন দাবিগুলো সংযত ও বাস্তবসম্মত রাখার কথা বলেন। কিন্তু দাবিগুলোর তালিকা এই মানদণ্ড অনুসরণ করেনি।
তিনি বলেন, এই দাবিগুলো প্রমাণ করেছে যে এই অবরোধের সাথে সন্ত্রাস মোকাবেলার কোন সম্পর্ক নেই। বরং তা কাতারের সার্বভৌমত্ব সীমিত এবং আমাদের পররাষ্ট্র নীতির উপর প্রভাব প্রয়োগের চেষ্টা।
কাতার সন্ত্রাসে মদদ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে অবরোধ আরোপ করলেও কাতার বরাবরই আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতায় মদদ বা সন্ত্রাসে অর্থায়নের এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
কাতারের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে মদদ দেয়ার অভিযোগ এনে গত ৫ জুন সৌদি আরবের নেতৃত্বে বাহরাইন, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং পরে লিবিয়া, ইয়েমেন ও মালদ্বীপ দেশটির সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। ইয়েমেনে কথিত সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের আরব জোট থেকেও বাদ দেওয়া হয় কাতারকে।
দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নজিরবিহীন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবরোধের মুখে পড়েছে কাতার। প্রতিবেশী দেশগুলোর অবরোধের মুখে কাতারকে খাদ্য এবং অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করছে তুরস্ক ও ইরান।
সঙ্কটে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা?
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদিসহ চার দেশের দাবির প্রতি সমর্থন জানানো নিয়ে ওয়াশিংটন দ্বিধায় থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারকে ‘অতিমাত্রায় সন্ত্রাসে অর্থায়নকারী’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন।
তবে এরপরও কাতারের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে মার্কিন নৌবাহিনীর দু’টি যুদ্ধজাহাজ কাতারে যায়। এছাড়া যুদ্ধবিমান ক্রয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি চুক্তিতেও স্বাক্ষর করে কাতার।
অবরোধকারী আরব রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। আবার মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সবচেয়ে বড় ঘাটিটি কাতারে অবস্থিত।








