দেশের অনলাইন বাজারে ক্রেতার আস্থা অর্জন এবং সর্বসাধারণের কাছে অনলাইন শপিংকে নির্ভরযোগ্য করতে আইন প্রণয়ন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ করার ঘোষণা দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ‘এনআরবি বাজার গ্রেট অনলাইন শপিং ফেস্ট’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফায়েল বলেন, ‘ই-কমার্স এখন বিশ্বব্যাপী আলোচিত। সম্প্রতি ব্যাংককে এক সম্মেলনে ক্রস বর্ডার ই-কমার্স চুক্তিতে সাক্ষর করা তিনটি দেশের মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ । রূপকল্প ২০২১ এ ডিজিটাল মধ্যম আয়ের দেশ গড়তে আমরা এগিয়ে চলেছি। বিস্তৃত আওতার ই-কমার্সখাতে শৃংখলা নিয়ম-নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রণালয় একটি আইন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ করার ব্যবস্থা নেবে।’
এই ঘোষণার আগে প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার দেশের অনলাইন শপিং বাজারে নীতিমালা নেই জানিয়ে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ডিজিটাল কমার্সের নীতিমালা পাইনি। আমরা ডিজিটাল কমার্স পলিসির একটি খসড়া তৈরি করেছি। বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে এই খসড়া নীতিমালা পেশ করা হবে।’ 
জব্বারের বক্তব্যের সূত্র ধরে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ অনলাইন বাজারে প্রতারণার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রীর দৃষ্টিআকর্ষণ করেন।
সম্প্রসারণশীল অনলাইন ব্যবসায় নীতিমালার প্রয়োজন জানিয়ে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘অনলাইন ব্যবসায় প্রাণ দিতে ২০০৯ সালে অনলাইন ব্যবসায় অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক, ২০১৩ সাল থেকে অনলাইনে ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডে ব্যবসার চল শুরু হয়। এরপর যুক্ত হয় মোবাইল ব্যাংকিং যেখানে দৈনিক ৩৫৬ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার ফেসবুক অনলাইন শপে ব্যবসা করা হচ্ছে। কিন্তু কোনো নিয়ম-নীতি নাই। আমাকে কী দেখাচ্ছে আর আমি কী পণ্য পাচ্ছি। এটাই ক্রেতার কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার, নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ, সেন্টার ফর এনআরবি ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট এম.ই শামীম, ইয়াং চেম্বার এন্ড কমার্স ইন্টারন্যাশনাল (ওয়াইবিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট ও টেলিপ্রেস এর প্রধান নির্বাহী রাজু আলীম প্রমুখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্য পর্বের পর তিন দিনের এই অনলাইন শপিং ফেস্টিভ্যাল উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনিসহ অন্যান্য অতিথিরা এরপর স্টলগুলো ঘুরে দেখেন।
আড়ং, রকমারি ডটকম, এনআরবি বাজার,আইসিটি বিভাগের স্টলসহ এই মেলায় অংশ নিচ্ছে অনলাইন রেস্টুরেন্ট, পর্যটন, হাউজিং, টেলিকমিউনিকেশন, টেলিমেডিসিনসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
১৯-২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রবেশমূল্য ছাড়াই আগ্রহীরা মেলা ঘুরতে পারবেন।








