চট্টগ্রাম থেকে: ২৪ বলে ১২ রানের ইনিংস খেলে পরিষ্কার এলবিডব্লিউ। রিভিউ নিলেও বাঁচার কোনো সুযোগ ছিল না। নিজ শহরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে আরও একবার সংগ্রাম করতে হল তামিমকে। আগের ম্যাচেও ফজলহক ফারুকির বলে হয়েছিলেন এলবিডব্লিউ।
বিপিএলে তামিমের দল মিনিস্টার ঢাকাতেই ছিলেন ফারুকি। নেটে আফগান বাঁহাতি পেসারকে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগল না! এদিনের ৫০ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসটা নিশ্চয় ভুলে যেতে চাইবেন তামিম। এরমাঝেই একটি মাইলফলক ছুঁয়েছেন টাইগার ওপেনার। অধিনায়ক হিসেবে পূর্ণ করেছেন ৫০০ রান।
বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বে ছিলেন এমন ১৭ ম্যাচে তামিমের সংগ্রহ ৫০৫ রান। যার মধ্যে সেঞ্চুরি একটি, ফিফটি চারটি। স্ট্রাইক রেট ৭৪.৯২। অধিনায়ক ছিলেন না এমন ২০৪ ম্যাচে তার ৭,১৮১ রান ৭৮.৮১ স্ট্রাইক রেট। পার্থক্য সামান্য হলেও তা যে নিম্নমুখী সেটি আড়াল করার সুযোগ নেই।
২০১৯ বিশ্বকাপের পর থেকে তামিমের স্ট্রাইক রেট নিয়ে কথা হচ্ছে বেশি। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার নেতৃত্বে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে তামিম ২৩৫ রান করেছিলেন ৭১.৬৪ স্ট্রাইক রেটে। যা ছিল পুরো দলের ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে কম। বোলারদের মধ্যে কেবল মোস্তাফিজের উপরে।
তামিম খেলার ধরন বদলেছেন সেটি সবারই জানা। মেরে খেলার স্বভাবসুলভ জায়গা থেকে সরে এসেছেন বেশ কয়েকবছর হল। তার সুফলও মাঝে মাঝে মেলে। তবে ওপেনারের মাঝে বেশিরভাগ সময় ধরে খেলার প্রবণতা কমই দেখা যায় আধুনিক ক্রিকেটে।
বিপদে হাল ধরে আফিফ-মিরাজের মতো তরুণরাও যখন ২২ গজে বীরত্বপূর্ণ উদাহরণ তৈরি করে নতুন বার্তা দিতে শুরু করেছেন, তখন আগ্রাসন চালিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে ব্যবধানের দেয়াল তৈরি করাই মনে হয় সমীচীন।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাড়ে সাত হাজারের বেশি রান তামিমের। সেঞ্চুরি করেছেন ১৪ বার। তার ধারে কাছে নেই দেশের অন্যকেউ। তবুও তামিমকে নিয়ে সমালোচনা বন্ধ হচ্ছে না। সেটি শুধু তার স্ট্রাইক রেটের কারণে।
একসময়কার ড্যাশিং ওপেনার নিজেকে দেশসেরা ওপেনার হিসেবে প্রমাণ করেছেন। দেশের সেরা ব্যাটসম্যান বলা হলেও আপত্তি করার মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। তারপরও তাকে নিয়ে আক্ষেপ থাকে, থাকে হতাশা। বড় ইনিংস খেলতে না পারলেই খোঁজাখুঁজি শুরু হয় ডট বলের সংখ্যা। এমন বাস্তবতাই এখন তামিমকে ঘিরে!







