আড়াইদিন বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর ড্র ছাড়া কিছুই হয়তো ভাবনার সীমানায় আসেনি কারও! তবে অদম্য শক্তির ভারত জয়ের দিকেই দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এগিয়েছে। ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে যাওয়ায় টেস্টকে টি-টুয়েন্টি বানিয়ে খেলে পরিকল্পনায় সফল রোহিত শর্মার দল। দুই ইনিংস মিলে মাত্র ৫২ ওভার ব্যাট করতে হয়েছে ভারতকে।
কানপুরে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে ছাড়ল টিম ইন্ডিয়া। এতটাই দাপট দেখিয়েছে স্বাগতিকরা যে, ম্যাচের আস্ত একটা সেশনও হাতে রেখে জিতেছে।
ড্রয়ের দারুণ সুযোগ সামনে থাকলেও আরেকটি ব্যাটিং ব্যর্থতায় প্রতিপক্ষের সামনে জয়ের সহজ রাস্তা তৈরি করে দেয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ১৪৬ রানে। ৯৫ রানের লক্ষ্য ৩ উইকেট হারিয়ে ১৭.২ ওভারে ছুঁয়ে ফেলে স্বাগতিক দল। ৪৫ বলে ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন জয়সওয়াল। ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন বিরাট কোহলি।
মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি ও তাইজুল ইসলাম একটি উইকেট নেন। সাকিব আল হাসান ৩ ওভার বোলিং করেন। বাকি কারও বল হাতে নেয়ার প্রয়োজন পড়েনি।
শেষদিনে সাদমান ইসলামের ফিফটি ও মুশফিকুর রহিমের ৩৭ রানের ইনিংস ছাড়া বাংলাদেশের প্রাপ্তি কিছুই নেই। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন অভিজ্ঞ মুশি। খালেদ আহমেদকে নিয়ে জুটি গড়ে ভারতকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জাসপ্রীত বুমরাহর স্লোয়ার ডেলিভারিতে বিভ্রান্ত হয়ে বোল্ড হন।
সকালে অপ্রয়োজনীয় রিভার্স সুইপ খেলার চেষ্টায় অদ্ভুতভাবে বোল্ড হন নাজমুল হোসেন শান্ত। রবীন্দ্র জাদেজাকে উইকেট দেয়ার আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক করে যান ১৯ রান। ৩৭ বলের ইনিংসে চারের মার দুটি। একশর আগে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারী দল। দ্রুত ফিরে যান সাদমান ইসলাম-লিটন দাস-সাকিব আল হাসান-মেহেদী হাসান মিরাজাও।
সাদমান ইসলাম ১০ চারে ১০০ বল খেলে যখন ফিফটি পূর্ণ করেন, আকাশ দীপের পরে বলেই দেন উইকেট। ৯৩ রানে ৫ উইকেট নেই তখন। পরে ৯৪ রান হতে হতে নেই ৬ উইকেট। লিটন তখন জাদেজার বলে পান্টের গ্লাভসে ক্যাচ দেন। বাংলাদেশের লিড মোটে তখন ৪২ রানের। এরপর সাকিব শূন্য রানে ও মিরাজ দ্রুত ফিরে গেলে পথ ঠিক হয়ে যায় ম্যাচের।
সকালে দিনের প্রথম বলেই সুইপ করতে গিয়ে ব্যাটের নাগাল পাননি মুমিনুল হক। তার পরে লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে আবারও করেন একই কাজ। ব্যাট ছুঁয়ে বল জমা পড়ে লেগ স্লিপ ফিল্ডার লোকেশ রাহুলের হাতে। প্রথম ইনিংসের অপরাজিত সেঞ্চুরিয়ান ফিরে যান ২ রান করে।
কানপুর টেস্টের পঞ্চম দিনের শুরুতে উইকেট হারানোয় বিপদ বাড়ে বাংলাদেশের। সেই বিপদ বড় হয়েছে ক্রমেই। ৫২ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিং শুরু করা বাংলাদেশ দেড়শও করতে পারেনি।
ম্যাচের প্রথমদিন ৩৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১০৭ রান তোলার পর খেলা বন্ধ হয়েছিল। বৈরি আবহাওয়া ও দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে খেলা শুরুর অপেক্ষা কেবল বাড়তে থাকে। প্রায় আড়াই দিন পর ম্যাচের চতুর্থ দিনে খেলার উপযোগী হয় মাঠ। বাংলাদেশকে প্রথম ইনিংসে ২৩৩ রানে অলআউট করে স্বাগতিক দল। ভারত প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৮৫ তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল।







