জিতলেই বিশ্বকাপের মূলপর্বে যাবে- এমন সমীকরণ নিয়ে খেলতে নেমেছিল জিম্বাবুয়ে। তবে স্কটল্যান্ডের কাছে ৩১ রানের হারে ক্রেইগ আরভিনের দলের ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে খেলতে পারবে না। ২০১৯ সালেও দলটি ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলতে ব্যর্থ হয়।
বাছাইপর্ব থেকে সবার আগে বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করা শ্রীলঙ্কা সুপার সিক্স টেবিলের শীর্ষে, পয়েন্ট ৮। জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে স্কটল্যান্ড। সমান পয়েন্ট নিয়ে রানরেটে পিছিয়ে থাকায় তিনে নেমেছে জিম্বাবুয়ে। চতুর্থ স্থানে থাকা নেদারল্যান্ডসের পয়েন্ট ৪ হলেও তারা রানরেটে জিম্বাবুয়ের থেকে এগিয়ে আছে। আর তাতেই জিম্বাবুয়ের বিদায় ঘণ্টা বেজেছে।
সুপার সিক্সে নিজেদের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস। ডাচদের হারাতে পারলে স্কটিশরা ৮ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপের মূলপর্বে যাবে। তবে নেদারল্যান্ডস বড় ব্যবধানে জিতলে তারাই বিশ্বকাপের টিকিট কাটবে।
মঙ্গলবার বুলাওয়েতে হওয়া ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা স্কটল্যান্ড ৮ উইকেটে ২৩৪ রান করে। জবাবে জিম্বাবুয়ে ৪১.১ ওভারে ২০৩ রানে অলআউট হয়।
উদ্বোধনী জুটিতে ক্রিস্টোফার ম্যাকব্রাইড ও ম্যাথু ক্রস ৫৬ রান যোগ করে স্কটিশদের ভালো সূচনা এনে দেন। টেন্ডাই চাতারার বলে ২৮ রান করা ম্যাকব্রাইড বোল্ড হলে জুটি ভাঙে। দলীয় রান একশো পেরোনোর পর সাজঘরে ফেরেন ক্রস, তিনি শন উইলিয়ামসের বলে বোল্ড হন।
ক্রসের বিদায় নেয়া থেকে স্কটল্যান্ড নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে। এক উইকেটে ১০২ থেকে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১৭০ রান। ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে আউট হন জর্জ মুন্সে।
শেষদিকে মিচেল লিস্ক ৩৪ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৪৮ ও মার্ক ওয়াটের ১৫ বলে ৩ চারে অপরাজিত ২১ রানের ইনিংসে ভর করে মাঝারি পুঁজি পায় স্কটল্যান্ড।
জিম্বাবুয়ের পক্ষে উইলিয়ামস ৩টি ও চাতারা ২টি উইকেট দখল করেন।
জিতলেই বিশ্বকাপের মূলপর্বে যাবে- এমন সমীকরণ নিয়ে খেলতে নামা জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য ছিল ২৩৫ রান। রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই স্বাগতিকরা উইকেট হারায়। ক্রিস সোলের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন জয়লর্ড গাম্বি।
দ্রুতই ক্রেইগ আরভিন, উইলিয়ামস ও ইনোসেন্ট কাইয়া ড্রেসিং রুমে ফিরলে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া জিম্বাবুয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৩৭ রান।
সিকান্দার রাজাকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন রায়ান রায়ান বুর্ল। ক্রিস গ্রিভসের বলে ৩৪ রান করা রাজা লং অফে ক্যাচ দুইয়ে ফিরলে জুটির অবসান হয়।
এরপর ওয়েসলি মাধেভেরেকে নিয়ে বুর্ল লড়াই চালিয়ে যান, গড়েন ৭৩ রানের জুটি। ওয়াটের বলে ৩৯ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় ৪০ রান করে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন মাধেভেরে। তাতে আবারো ম্যাচে ফেরে স্কটল্যান্ড।
ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ৫ রান করে রিচি বেরিংটনের হাতে ধরা পড়লে জিম্বাবুয়ে আবারো চাপে পড়ে। লিস্কের বলে রিচার্ড এনগারাভা ফিরতি ক্যাচ দিলে স্কটল্যান্ডের জয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা জাগে।
একপ্রান্ত আগলে রেখে স্বাগতিকদের আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলছিলেন বুর্ল। যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে জাগাচ্ছিলেন জয়ের সম্ভাবনা। লিস্কের বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে মিডউইকেটে ব্র্যান্ডন ম্যাকমুলেনের হাতে ধরা পড়েন বুর্ল। ৮৪ বলে ৮ চার ও এক ছক্কায় ৮৩ রানের দারুণ ইনিংস খেলেও হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন।
শেষ ব্যাটার চাতারাকে বোল্ড করে স্কটল্যান্ডকে জয়ের আনন্দে ভাসান সাফিয়ান শরীফ।








