চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আজকের ম্যাচ হবে খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ: চুন্নু

কাতার-ইকুয়েডর উদ্বোধনী ম্যাচ

Nagod
Bkash July

বর্ণাঢ্য, বর্ণিল কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা উন্মোচন হবে আজ রাতে। ঠিক রাত দশটায় কাতারের আল বাইত স্টেডিয়ামে সবধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে উদ্বোধনী ম্যাচে অংশগ্রহণ করবে ‘এ’ গ্রুপের স্বাগতিক দেশ কাতার এবং সাউথ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডর। এই গ্রুপের অন্য দুটি দল সেনেগাল এবং নেদারল্যান্ডস।

Reneta June

কাতারের জন্য আজকের দিনটি সবমিলিয়ে নিঃসন্দেহে এক স্বর্ণখচিত দিন। প্রথমত: বিশাল এক বিনিয়োগের মধ্যে দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো এত বড় আয়োজন করা, দ্বিতীয়ত: বিশ্বকাপের মতো ফুটবল আসরে আজ তাদের ফুলেল অভিষেক।

কাতার এর আগে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা কখনই অর্জন করেনি, খেলেওনি। এবারই বিশ্বকাপের আসরে তারা প্রথম। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর এবার নিয়ে খেলবে চতুর্থবার। এর আগে তারা খেলেছে তিনবার (২০০২, ২০০৬ এবং ২০১৪)। সব ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে শেষপর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে ঠাঁই পেয়েছে ইকুয়েডর।

বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের পর এই দেশটির বিরুদ্ধে নিয়ম ভেঙে ‘অযোগ্য’ খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ এনেছিল প্রতিপক্ষ চিলি। চিলি বলেছিল ইকুয়েডরের বায়রন কাস্তিয়ো নামক ফুটবলারটির জন্মসনদ ভুয়া। এরপর ফিফা জোর তদন্ত শুরু করে। শেষ পর্যন্ত চিলির অভিযোগ নাকচ করে দেয় ফিফার আপিল কমিশন। ফলে ইকুয়েডরকে আর বিশ্বকাপের লড়াই থেকে সরে যেতে হয়নি।

কাতার এবং ইকুয়েডরের মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচ নিয়ে জনমনে বেশ কৌতূহল। সেই কৌতূহলটা বেশি উসকে দিয়েছে কাতার নিজেই— তার আর্থিক প্রতিপত্তির কারণে। যেহেতু তারা হোমগ্রাউন্ডে খেলবে, সেহেতু জয়ের জন্য তারা যে খানিকটা মুখিয়ে আছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ কাতার জয়ী হলে সেটি হবে তাদের সেরার সেরা সাফল্য। কাতার তাই উদ্বেল উন্মুখ হয়ে দু’হাত প্রসার করে আছে। একটি ইতিহাস রচনা করার উন্মাদনায় তারা অনেকটাই বিভোর।

কাতার এবং ইকুয়েডরের মধ্যকার বিগতদিনের লড়াইয়ের পরিসংখ্যানটা একটু দেখা যাক। এ দুটি দেশ এ যাবৎকালে মোট তিনবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। তিনটিই ছিল প্রীতি ম্যাচ।

পরিসংখ্যান মতে, কাতার এবং ইকুয়েডর প্রথম মুখোমুখি হয় ১৯৯৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। সে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ঐ বছর আবারও মুখোমুখি হয় এই দুটি দল। ২৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ইকুয়েডর ২-১ ব্যবধানে কাতারকে পরাজিত করে। তবে ২০১৮ সালের ১২ অক্টোবর কাতার মধুর প্রতিশোধও নেয়। ঐ ম্যাচে কাতার ৪-৩ গোলের ব্যবধানে ইকুয়েডরকে পরাজিত করে।

ফিফা র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী, ইকুয়েডরের বর্তমান অবস্থান ৪৬ নাম্বারে, অন্যদিকে কাতারের অবস্থান ৫০। অনুমিত হচ্ছে আজকের লড়াইয়ে কাতার খেলার জন্য বেছে নেবে ৪-৪-২ পদ্ধতি। অন্যদিকে ইকুয়েডর বেছে নেবে ৪-২-৩-১ লাইন আপ। জয় নিশ্চিত এমন কথা দু-দলের কেউ বলছেন না। বরং ইকুয়েডরের আর্জেন্টাইন কোচ গুস্তাভো আলফারো অনেকবেশি কৌশলে বলছেন দলের শক্তি-সামর্থ্য আর প্রত্যাশা নিয়ে।

তার মতে, উদ্বোধনী ম্যাচে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নের বিরুদ্ধে লড়বেন এটিকে তিনি খুব গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার এক কথা ‘আপনি কখনই জানেন না এই ম্যাচে কী হবে। যেকোনো কিছু ঘটতে পারে এবং এটিই ফুটবল।’

আশরাফ উদ্দিন আহমদ চুন্নু

গুস্তাভো আলফারো আরও বলেছেন, গ্রুপে আমাদের খেলতে হবে এশিয়ান ও আফ্রিকার চ্যাম্পিয়নের বিরুদ্ধে। আর রয়েছে নেদারল্যান্ডস। সুতরাং অযৌক্তিক কিছু না বলাই ভালো। এখানে উল্লেখ্য ইকুয়েডর টিমের কোচ, সহকারী কোচ, গোলকিপার কোচ সবাই আর্জেন্টিনার।

কাতারের জন্য আল বাইত স্টেডিয়াম নাকি বরাবরই সৌভাগ্যময়। কাতার এই গ্রাউন্ডে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছে। আজ সেই স্টেডিয়ামে খেলা। কাতারবাসীও তাই ওঁত পেতে আছে একটি জয়ের। জয় পেলে কাতারবাসীর উৎসবটা হবে অন্যরকম।

কাতারের কোচ ফেলিক্স সানচেজ কাতার টিম নিয়ে অনেকটাই চিন্তিত। তার মতে, ‘ডিফেন্সিভ এবং কাউন্টার অ্যাটাক’ এমন একটি মডেল ধরেই তিনি ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা করছেন। তিনি মনে করেন, কাতারের বড় সামর্থ্য কাউন্টার অ্যাটাক থেকে প্রতিপক্ষের সীমানা তছনছ করে দেওয়া। বহুবিধ কারণেই প্রথম ম্যাচটি তার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি মনে করেন, এই ম্যাচের ইতিবাচক ফলাফলই কাতারের ফুটবলের সামনের দিনের উজ্জ্বলতার আরও বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। জয়ের ক্ষেত্রে এই কোচ তাদের দলের স্ট্রাইকার অলমোয়েজ আলীকে অন্যতম একজন হিসেবে ভাবছেন। আলী অনেকদিন ধরেই টপফর্মে রয়েছেন। এশিয়ান কাপে সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। তার উপর বিশ্বাসটাও তাই বেশি।

কাতার এবং ইকুয়েডরের ম্যাচ নিয়ে আমরা কথা বলেছিলাম বাংলাদেশের সাবেক তারকা ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন আহমদ চুন্নুর সাথে। চুন্নুর মতে, ‘কাতার এবং ইকুয়েডরের উদ্বোধনী ম্যাচটি হবে খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এই ম্যাচে কোন দলকে সুনির্দিষ্টভাবে এগিয়ে রাখার কোনো উপায় নেই। দুটি দল দুই মেরুর এবং দলীয় সামর্থ্যে দুটি দলই সমানে সমান। তবে শুধু দলীয় শক্তি দিয়ে এই ম্যাচকে বিশ্লেষণ করা যাবে না। চারবার বিশ্বকাপে খেলা ইকুয়েডর যেমন অনেক অভিজ্ঞ, তেমনি কাতার যে হোমগ্রাউন্ডে নিজেদের সব উজাড় করে খেলবে এটাও বিবেচনায় রাখতে হবে। এশিয়ান বিজয়ী হিসেবে তাদের আত্মবিশ্বাসটাও অটুট।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফুটবল তো এখন বিজ্ঞানের মতো। সবকিছু এনালাইসিস করা যায়। বিদেশি মিডিয়াতে অনেক ধরনের বিশ্লেষণ দেখতে পাচ্ছি। বিভিন্ন ধরনের মাধ্যম থেকে অনেক ধরনের অনুমানের কথাও বলা হচ্ছে। কিন্তু মূল ফলাফলটা মাঠে দেখা যাবে। আজ রাতে সেটিই দেখা যাবে।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘উদ্বোধনী ম্যাচে কাতার জয় লাভ করুক এমন প্রত্যাশা করি। এশিয়ার দেশ হিসেবে কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জয়লাভ করলে সেটা একটা রেকর্ডও হবে। আবার একই সাথে এমন জয়ে এশিয়ার ফুটবলের উপর অনেক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

কাতারের হেড কোচ ফেলিক্স সানচেজকে দলের অন্যতম প্রাণভোমরা বলে মনে করেন আশরাফ উদ্দিন আহমদ চুন্নু। তার মতে, স্পেনের এই কোচ দীর্ঘদিন ধরে কাতার দলের সাথে জড়িত। তরুণ অনেক খেলোয়াড়কে তিনি হাতে ধরে বড় করেছেন। প্রতিটি ফুটবলার সম্পর্কে তার আদ্যোপান্ত জানা। ফলে একটা চমক দেখানোর ইচ্ছে তার রয়েছে। সবমিলিয়ে সেটি সম্পূর্ণতা পেলে আরব ফুটবলের জৌলুস আরেকটু উদ্ভাসিত হবে। সব অনুমান ভেঙেচুরে তাই জিতুক না কাতার।

BSH
Bellow Post-Green View