কান চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণপামজয়ী ইরানের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহি সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে তার অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি দীর্ঘ পোস্টে।
সেই পোস্টে তিনি বলেন, আমার মাতৃভূমি ইরানের উপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইসরায়েল আগ্রাসন চালিয়েছে এবং তাদের যুদ্ধাপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার হওয়া উচিত।
একইসঙ্গে তিনি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার চরম সমালোচনাও করে লেখেন, চার দশকের দুর্নীতি, নিপীড়ন, অযোগ্যতা আর স্বৈরতন্ত্রকে কোনোভাবে ন্যায্যতা দেওয়া যায় না। এই সরকার না ক্ষমতাসীন থাকার যোগ্য, না সংকট সামাল দেওয়ার যোগ্য। এই শাসন ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা মানে পতনের ধারাবাহিকতা, দমন-পীড়নের ধারাবাহিকতা।
পানাহি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার পক্ষে তিনি। সেইসঙ্গে তিনি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এই যুদ্ধ দুই দেশের সাধারণ নাগরিকদের জীবন ধ্বংস করছে, অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। এটা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, গোটা মানবতার জন্য হুমকি।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় উভয় রাষ্ট্রের শাসকদের দোষারোপ করে বলেন, দুই সরকারই মানুষের মর্যাদাকে তুচ্ছ করে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আবাসিক এলাকায় বোমা ফেলা, নিরীহ মানুষকে হত্যা করা এসব সরাসরি অপরাধ। নৈতিকতা, রাজনীতি কিংবা নিরাপত্তা—কোনোটাই এসবের পক্ষে যুক্তি হতে পারে না।
পানাহি বিশ্ব সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দুই শাসনব্যবস্থাকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করুন। নির্লিপ্ততা মানে এই অপরাধে অংশগ্রহণ।
এই পোস্টটি ইরান ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোড়ন তুলেছে। যেখানে একজন প্রথিতযশা নির্মাতা—যিনি নিজেই বছরের পর বছর ধরে ইরান সরকারের নিপীড়নের শিকার- তা সত্ত্বেও তিনি তার কণ্ঠস্বরকে ব্যবহার করেছেন যুদ্ধের বিরুদ্ধে, মানবতার পক্ষে।








