কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের বাড়িতে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় তার সঙ্গে উপদেষ্টা পরিষদে থাকা দুজন ছাত্র প্রতিনিধিও যাবেন।
শনিবার (১০ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম ও আমি রংপুর আসছি শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করতে।
তিনি বলেন, আমাদেরকে অনুপ্রেরণা দেওয়া, শহীদ হওয়ার স্পৃহা ছড়ানো আবু সাঈদ। গণঅভ্যুত্থানে প্রধান নায়ক শহীদ আবু সাঈদের কবর যিয়ারত করতে আসছি। এছাড়া বেরোবিতেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সাথে দেখা করবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এর আগে রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূস শনিবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একটি হেলিকপ্টারযোগে রংপুর পৌঁছাবেন। এরপর তিনি আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করে তার পরিবারের সাথে কথা বলবেন।
গত বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) বিমানবন্দরে আবু সাঈদের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এ সময় তিনি বলেন, এই সময়ে আবু সাঈদের কথা মনে পড়ছে। যে আবু সাঈদের ছবি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মনে গেঁথে আছে। এটা কেউ ভুলতে পারবে না। কী অবিশ্বাস্য একটা সাহসী যুবক বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে আছে এবং তারপর থেকে আর কোনো যুবক, কোনো যুবতী হার মানেনি। সামনে এগিয়ে গেছে এবং বলেছে যত গুলি মারো, মারতে পারো। আমরা আছি।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী কোটা আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
নিহত আবু সাঈদ রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুরে গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। ৯ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট।







