সিঁধ কেটে বসতঘরে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরিসহ শিউলি আক্তার নামের এক গুহবধূকে ছুরিকাঘাত করে খুন করার অপরাধে মো. আরাফাত হোসেন দিদার (২৮) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আরাফাত কুমিল্লা মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাতিমারা গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৭ জুন দিবাগত রাত ২টায় আসামি মো. আরাফাত হোসেন দিদার কুমিল্লা মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাতিমারা গ্রামে ভিকটিমের বসতঘরে সিঁধ কেটে প্রবেশ করে। পরে চুরি করার সময় শিউলি আক্তার দেখে ফেলায় তাকে ধারালো ছুরিকাঘাত করে জখম করে এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও নগদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় ও শিউলির স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরের দিন সকাল ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে পরদিন নিহতের বড় ভাই মো. জামাল হোসেন বাদি হয়ে একই গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে মো. আরাফাত হোসেন দিদারকে একমাত্র আসামি করে মনোহরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। রাষ্ট্র পক্ষের ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুনানি অন্তে আসামি আরাফাতের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে খুনের অপরাধে দোষী সাবস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়।
এছাড়াও আরেকটি ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণাকালে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এ রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপক্ষে নিযুক্ত কৌশলী এপিপি অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেন।








