অধস্তন আদালতের ৫১ জন বিচারকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তদন্ত চেয়ে দায়ের করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ ওই রিট খারিজের আদেশ দেন।
এর আগে একটি বেসরকারি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রীম কোর্টের অ্যাডভোকেট আমিমুল এহসান জোবায়ের জনস্বার্থে গত ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং- ১৫৫৭০/২০২৪ দায়ের করেছিলেন।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট খারিজের রায়ে পর্যবেক্ষণ দেন যে শুধুমাত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে অর্ধশত বিচারকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চেয়ে দায়ের করা রিটটি বিধিসম্মত হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর দৈনিক সমকাল পত্রিকায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর গোপন অনুসন্ধান প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে অধস্তন আদালতের ৫১ জন বিচারকের বিরুদ্ধে ‘অবিশ্বাস্য সম্পদ অর্ধশত বিচারক-কর্মকর্তার, অ্যাকাউন্টে শতকোটি টাকা অনেকের’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পরদিনই বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের জরুরি সভায় এই ধরনের ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও মর্যাদার জন্য ক্ষতিকর দাবি করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি বিচারকগণ প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে পত্রিকাটির সম্পাদক বরাবর লিখিত প্রতিবাদলিপি প্রেরণ করেন, যা ১৫ ও ১৯ অক্টোবর পত্রিকাটিতে প্রকাশ করা হয়।
এদিকে, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিটের শুনানিতে রিটকারী অ্যাডভোকেট আমিমুল এহসান জোবায়ের নিজেই রিটের পক্ষে শুনানি করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ বলেন, পুরো ইস্যুটি পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ নিয়ে, অথচ উক্ত সংবাদটিতে দুদকের যে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, দুদকে এই ধরনের কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদন নেই, এমনকি দুদকে উল্লিখিত বিচারকগণের বিরুদ্ধে কোনোপ্রকার অনুসন্ধান বা তদন্তও চলমান নেই। শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ রিটটি সরাসরি খারিজ করে দেন।
শুনানিকালে আদালত বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত যে সংবাদটির ভিত্তিতে রিটটি দায়ের করা হয়েছে তার কোনো ভিত্তি নেই। তাছাড়া আদালত রিট পিটিশনটিতে জনস্বার্থ (পাবলিক ইন্টারেস্ট বা পিআই) মামলার মানদণ্ড পূরণ করা হয়নি এবং মামলাটিতে কোনো সারবত্তা নেই মর্মে উল্লেখ করেন।
বিবাদীপক্ষ ৫১ বিচারকের পক্ষে অ্যাডভোকেট সানোয়ার আহমেদ আদালতকে উদ্ধৃত করে বলেন, কেবলমাত্র পত্রিকায় প্রকাশিত ভিত্তিহীন সংবাদের ভিত্তিতে বিচারকগণের বিরুদ্ধে এই ধরনের রিট দায়ের করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।








