দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির জন্য জার্মানির কাছে নতুন করে ক্ষতিপূরণের দাবি রাখলেন পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকরস্কি। যুদ্ধের দুর্দশা থেকে বেরোতে জার্মানির কাছে ‘সৃজনশীল সমাধান’ চায় ওয়ারশ।
গতকাল ৩১ জানুয়ারি এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডয়েচ ভেলে জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পোল্যান্ডে নাৎসি বাহিনীর লুঠপাটের ‘আর্থিক ক্ষতিপূরণ’ দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকরস্কি। গত ডিসেম্বরে পোল্যান্ডের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো জার্মান সফরে এসে তিনি ক্ষতিপূরণের প্রসঙ্গ টানেন।
জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের সাথে বৈঠকের পর সিকরস্কি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পোল্যান্ডের সাথে জার্মানি যা করেছিল, তা ছিল নির্মম ও জঘন্য। যদি জার্মানি কোন সৃজনশীল সমাধানের মাধ্যমে অনুশোচনা ব্যক্ত করে, যারা এতকিছুর পরেও বেঁচে আছেন, তাদের জন্য ভালো কিছু করে, তাহলে তা পোল্যান্ডের জন্য ভালো হবে। অতীতকে নৈতিকভাবে খতিয়ে দেখলে আর্থিক ক্ষতিপূরণই একমাত্র সমাধান হবে।
এর আগের পোলিশ সরকারও জার্মানির ক্ষতিপূরণকে নৈতিক দায়িত্ব বলেছিল। এই দাবি পরে পোল্যান্ড-জার্মান সম্পর্কে কিছুটা ভাঁটাও আনে। ৫২ লাখ পোলিশ নাগরিকের মৃত্যুর জন্য তৎকালীন সরকার জার্মানির কাছে এক লাখ ৩০ কোটি ইউরোর ক্ষতিপূরণ দাবি করে। তবে তাদের এই দাবিকে তখনই খারিজ করে দেয় জার্মানি।
জার্মান কর্তৃপক্ষের মতে, ক্ষতিপূরণের বিতর্কের সমাধান হয়ে গেছে ১৯৯০ সালে, যখন জার্মানির পুনরেকত্রীকরণ হয় ‘টু প্লাস ফোর’ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যেখানে পোল্যান্ডের কোনো ভূমিকা ছিল না। জার্মানি আরও মনে করিয়ে দেয় ১৯৫৩ সালের একটি সিদ্ধান্তের কথা, যেখানে পোল্যান্ড তৎকালীন পূর্ব জার্মানির কাছ থেকে সকল দাবি প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।








