মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে এমনই গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছেন কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি।
আজ (৭ মার্চ) শনিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-কাবি বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত যদি আরও কয়েক সপ্তাহ চলে, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলের সব জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশকে উৎপাদন বন্ধ করে ‘ফোর্স ম্যাজর’ ঘোষণা করতে হবে। এতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে তীব্র সংকট দেখা দেবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
হরমুজ প্রণালীতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ হয় সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই পথে ট্যাঙ্কার চলাচল প্রায় থেমে গেছে। আল-কাবির মতে, যদি এই প্রণালী দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল না হয়, তাহলে ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম ১৫০ ডলার (১৮ হাজার ৩৮৭ টাকা) ছুঁয়ে ফেলতে পারে। যা যুদ্ধের আগের দামের প্রায় চার গুণ।
কাতারের এলএনজি উৎপাদনে বড় ধাক্কা
ইরানি ড্রোন হামলায় কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি ও মেসাইদে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কাতার এনার্জি উৎপাদন বন্ধ করে ফোর্স ম্যাজর ঘোষণা করেছে। আল-কাবি জানান, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এখনও মূল্যায়ন চলছে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে ‘সপ্তাহ থেকে মাস’ লাগতে পারে। কাতারের ১২৮টি এলএনজি পরিবাহী জাহাজের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৬ থেকে ৭টি লোডিংয়ের জন্য প্রস্তুত। এতে বিশ্বব্যাপী এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
বিকল্প পথ সীমিত
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিকল্প পাইপলাইন রয়েছে, যা আরব সাগরের বন্দর পর্যন্ত জ্বালানি পৌঁছে দিতে পারে। কিন্তু এসব পাইপলাইনের ক্ষমতা সীমিত হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়, তার পুরোটা বিকল্প রুট দিয়ে সম্ভব নয়।
সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে।

