রাজধানী ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সোমবার ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হলো ইনপন্ড রেইসওয়ে সিস্টেম (আইপিআরএস) প্রযুক্তি বিষয়ক একটি বিশেষ কর্মশালা।
এই কর্মশালার আয়োজন করে ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (ইউসেক) এবং ইউএস সয়। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য খাতের উদ্যোক্তা, বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও নীতি-নির্ধারকরা। আলোচনায় উঠে আসে বাংলাদেশে মাছ চাষে আধুনিক প্রযুক্তি আইপিআরএসের কার্যকর ব্যবহার, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে মাছ উৎপাদনে অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছে। প্রান্তিক খামারিদের উদ্যোগ, সরকারের নানা প্রণোদনা ও তরুণদের আগ্রহ মিলিয়ে এ খাতে তৈরি হয়েছে এক যুগান্তকারী বিপ্লব। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন “দ্য স্টেট অব ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার–২০২৪” অনুযায়ী, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শুধু উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মানসম্মত মাছ উৎপাদন। এজন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। আইপিআরএস প্রযুক্তি সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবায়ন করতে পারে। এ প্রযুক্তিতে প্রবাহমান পানির ধারা তৈরি করে মাছ চাষ করা হয়, যার ফলে পানির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে থাকে, মাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং উৎপাদন খরচও কমে আসে। একই সঙ্গে সীমিত জলাশয়ে অনেক বেশি মাছ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়।
কর্মশালায় ইউসেক বাংলাদেশের কান্ট্রি লিড খাবিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে মৎস্য খাতের উন্নয়নে আইপিআরএস প্রযুক্তি ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তারা শুধু দেশীয় বাজার নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও মানসম্মত মাছ সরবরাহ করতে পারবেন।
ইউসেক সাউথ এশিয়ার হেড অব অ্যাকুয়াকালচার ইউটিলাইজেশন চন্দ্রশেখর শঙ্করনারায়নান বলেন, বাংলাদেশে মৎস্য চাষের যে প্রসার তা প্রযুক্তির আওতায় আনা গেলে বিশ্বব্যাপী এক নতুন জাগরণ তৈরি হবে, যা বাংলাদেশের মৎস্যখাতের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
কর্মশালায় বক্তারা আরও জানান, দেশে বদ্ধ জলাশয়ের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এসব জলাশয়কে উৎপাদনশীল করতে আইপিআরএস হতে পারে একটি কার্যকর উপায়। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, পানি দূষণ কমে এবং পরিবেশও সুরক্ষিত থাকে।
আইপিআরএস বিষয়ে দক্ষ উদ্যোক্তা ফেরদৌস মুরাদ বলেন, কৃষি উন্নয়নে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের ধারাবাহিক প্রচারণায় আইপিআরএস প্রযুক্তি ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তারা এর প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তরুণদের হাতে এ প্রযুক্তি পৌঁছালে বাংলাদেশের মাছ চাষে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
কর্মশালায় ইউসেক এবং ইউএস সয়ের প্রতিনিধিরা জানান, বাংলাদেশের খামারিদের জন্য তারা দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময়ের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এর ফলে প্রযুক্তি ব্যবহারে যে কোনো ধরনের জটিলতা বা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে।
বাংলাদেশে মৎস্য খাত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। এই খাতকে আরও শক্তিশালী করতে হলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। আইপিআরএস সেই যাত্রায় একটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে।








