নাটক, সিনেমা যারা দেখেন তাদের কাছে পরিচত মুখ শামীম হোসেন। ছোট ছোট চরিত্রে দেখা গেলেও হাস্যরসে দর্শককে বিনোদিত করেন তিনি। অথচ এই শামীম কাজের অভাবে নিরুপায় হয়ে পড়েছেন, ‘অর্থকষ্টে’ আছেন বলে জানিয়েছেন।
বুধবার সকালে নিজের ফেসবুকে দেয়া এক ভিডিওতে অশ্রুসিক্ত চোখে শামীম বলেন, রোজা ১৪টা হয়ে গেল, অথচ কাজ না করে বেকার থাকলে মনের অবস্থা খুব খারাপ থাকে। পরিবার, আত্মীয় স্বজনদের জন্য মাসে আয়ের একটা টার্গেট থাকে। কিন্তু আমার কাজ না থাকায় মাঝেমধ্যে মনে হয় টেনশনে পাগল হয়ে যাই। পাশে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ নাই। আল্লাহর কাছে চাই, আমিসহ সবার রিজিকের বরকত দিয়ে দেন।
তার আগের পোস্টে শামীম লিখেছেন, আমরা হচ্ছি মধ্যবিত্ত ফ্যামিলি। তাই জানালার ফাঁক দিয়ে চাইয়া থাকি যদি কোনো কাজে, কেউ যদি ডাকে, যদি পাশে এসে দাঁড়ায়। অভাব কী জিনিস আজকে আমি টের পাচ্ছি ভাই।
২০ বছর আগে কুলিগিরি, পকেটমার, রিক্সচালানো এসব করে জীবিকা নির্বাহ করতেন শামীম হোসেন। এরপর ১৯৯৭ সালে বেইলি রোডের মহিলা সমিতির অফিসে পিওনের চাকরি নেন।
তখন আফসানা মিমির ডাকে ‘বন্ধন’ নাটকে কয়েকটি দৃশ্যে অভিনয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে অভিনয় শুরু করেন। এরপর হাজারও নাটক ও দুই ডজনের বেশি চলচ্চিত্রে ছোট ছোট কমেডি চরিত্রে অভিনয় করেন শামীম। পান দর্শকপ্রিয়তাও৷
তবুও কেন এই অবস্থা। জানতে এই অভিনেতার সাথে যোগাযোগ করে চ্যানেল আই অনলাইন।
বুধবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে শামীম হোসেন বলেন, এক বছর হল নাটক থেকে দূরে আছি। যারা কাজ করে নিয়মিত তাদের সাথে আমার ওভাবে যোগাযোগ নেই। আবার আমার সাথে যাদের যোগাযোগ আছে, তারা সেভাবে কাজ করে না।
হাতে কোনো কাজ নেই বলেই বাধ্য হয়ে ফেসবুকে জানিয়েছেন দাবি করে শামীম বলেন, নাটকে তো এক বছর ধরে কাজ নেই। হারুন কিসিঞ্জার ভাইয়ের ইউটিউব নির্ভর বিভিন্ন কনটেন্টে কাজ করতাম। কিন্তু গত দুমাস হল তাও কাজ হচ্ছে না। আমার তিন ছেলে আমি এবং আমার ওয়াইফ, ফ্যামিলিতে মোট পাঁচজন। আমি একমাত্র উপার্জন করা ব্যক্তি। মনের কষ্ট থেকে কথাগুলো ফেসবুকে লিখেছি।







