১০ সপ্তাহ ধরে মজুরি না পাওয়ায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ন্যাশনাল টি কোম্পানির ১২টি চা বাগানে আন্দোলন করছে শ্রমিকরা। ৪ সপ্তাহ ধরে শ্রমিকরা কর্মবিরতিতে থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে এসব বাগানের উৎপাদন।
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে শ্রমিকদের সাথে কথা বললে, তারা জানান, বেতন না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চলা দায় হয়ে পড়েছে।
আর বাগান কর্তৃপক্ষ বলছে, ঋণ জটিলতায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে।
সারা দেশে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ন্যাশনাল টি কোম্পানির ফাঁড়ি বাগানসহ ১৯টি চা-বাগান রয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজারে এনটিসির বাগান রয়েছে ১২টি। এসব বাগানে প্রায় ১৭ হাজার শ্রমিক কাজ করলেও গত আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা কোনো মজুরি পাচ্ছেন না। এতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শ্রমিক ও পরিবারের সদস্যরা।
শ্রমিকরা বলেন, ৬ সপ্তাহ বেতন, রেশন না পেয়ে কাজ করেছিলেন। মানবেতর জীবনযাপনে দেয়ালে পিঠ আটকে যাওয়াতে বাধ্য হয়ে কর্মবিরতিতে যেতে হয়েছে তাদের। ১১ অক্টোবর থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন তারা।
পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, ১০ সপ্তাহের বকেয়া বেতন, রেশন না পাওয়ার পরও কর্মবিরতিসহ মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করছেন। দ্রুত বেতন, রেশন না দিলে আন্দোলনে যাবেন তারা।
চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা বলেন, ৬ সপ্তাহ বিনা মজুরিতে কাজ করার পর চা জনগোষ্ঠী বেতন পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে চার সপ্তাহ ধরে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন।

প্রেমনগর চা বাগানের ব্যবস্থাপক হোসাইন উদ্দিন বলেন, কৃষি ব্যাংকের ঋণ জটিলতায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
পাত্রখোলা, চাম্পা রায়, কুরমা, কুরঞ্জি, বাঘা ছড়া, মাধবপুর, পদ্মছড়া প্রেমনগর চা–বাগানসহ ১২টি বাগানে প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় শ্রমিক আন্দোলনে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রাষ্ট্রীয় ন্যাশনাল টি কোম্পানি আরো ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।








