বাংলাদেশের মেয়েদের শুরুটা ছিল আশা জাগানিয়া। মেয়েদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ১০ বছর পর জয়ের দেখা পেয়েছিল প্রথম ম্যাচেই। স্কটল্যান্ডকে হারানোর পর সুযোগ ছিল ইংল্যান্ডকে হারানোর। ইংলিশদের সঙ্গে জয়ের কাছাকাছি গিয়েও শেষপর্যন্ত হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় নিগার সুলতানা জ্যোতির দলের। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বড় হারের পর এবার গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে সাউথ আফ্রিকার কাছেও হেরেছে টিম টাইগ্রেস। তাতে চার ম্যাচের তিনটিতে হেরে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ হল লাল-সবুজদের।
সংযুুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে শনিবার টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগ্রেস অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ব্যাটে নেমে ৩ উইকেটে ১০৬ রানের পুঁজি দাঁড় করায় বাংলাদেশ। জবাবে ১৭.২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় প্রোটিয়া মেয়েরা। তাতে ১৬ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় তারা।
ব্যাটে নেমে শুরুটা ভালো করেনি বাংলাদেশ। প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই আউট হয়ে ফিরে যান দিলারা আক্তার। মারিজানে ক্যাপের করা বলে প্রোটিয়া উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন টাইগ্রেস ওপেনার। ২ বলে শূন্য রানে ফিরেছেন তিনি।
পাওয়ার প্লে-তেও খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। ৬ ওভার শেষে এক উইকেট হারিয়ে টাইগ্রেসদের সংগ্রহতে জমা হয় ২১ রান। পেস অলরাউন্ডার অ্যানেরি ডারকসেনের করা অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচ দেন সাথী রাণী। দলীয় ৩৬ রানে আউট হয়ে ফিরে যান এই ওপেনার। একটি করে চার ও ছক্কার মারে ৩০ বলে ১৯ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
নিগার সুলতানা জ্যোতি ও সোবহানার ব্যাটে এগোতে থাকে বাংলাদেশ। ৩৬ রানে দিলারার উইকেট হারানোর পর এই জুটি আসে ৩১ রান। জ্যোতি-সোবহানার ৪৫ রানের জুটি ভেঙে আউট হন সোবহানা। ননকুলুলেকো ম্লাবার বলে ৪৩ বলে ৩৮ রান করে ফিরলেন তিনি। এ যাত্রায় তিনি ৪টি চারের মার মারেন। তাতে শেষপর্যন্ত তিন উইকেট হারিয়ে ১০৬ রানে থামে বাংলাদেশ।
জবাবে জবাবে ১৭.২ ওভারে জয় তুলে নিয়েছে প্রোটিয়ারা মেয়েরা। দলটির হয়ে ওপেনার তাজমিন ব্রিটস’র ৪১ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেলেন। অ্যানেকে বোশ ২৫ রান যোগ করেন।
বাংলাদেশের হয়ে ৪ ওভারে ১৯ রানে ২ উইকেট নেন ফাহিমা খাতুন। ঋতু মনি ২২ রানে নেন ১ উইকেট।
এই জয়ে গ্রুপ ‘বি’তে ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখল সাউথ আফ্রিকার মেয়েরা। ২ ম্যাচে ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ৪ আর ৩ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ শেষ করল ৪ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে।








