ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে প্রথমবার মেয়েদের ফুটবল বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দের মাঝে শোক সংবাদ পেল স্পেন দল। ফাইনালের একমাত্র গোলদাতা ও স্পেন অধিনায়ক ওলগা কারমোনা শুনলেন বাবা মৃত্যুর খবর।
ফাইনালের পর কারমোনা বাবার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। খেলায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় খবরটি গোপন রাখা হয়েছিল। আরএফইএফ কারমোনার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণীর পর জানান।
রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) একজন মুখপাত্র গণমাধ্যমে বলেছেন, কারমোনার বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন। শুক্রবার তিনি মারা যান।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে রোববার ফাইনালের ২৯ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে বাঁ-পায়ে জোরাল শটে গোল করেন ২৩ বর্ষী কারমোনা।
বাবার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারমোনা লিখেছেন, ‘না জেনেই খেলা শুরু হওয়ার আগে আমার নিজের তারকা (বিশ্বকাপ জয়ের চিহ্ন) পেয়েছিলাম। আমি জানি তুমি আমাকে অনন্য কিছু অর্জন করার শক্তি দিয়েছ। আমি জানি তুমি আজ রাতে আমাকে দেখছ এবং তুমি আমাকে নিয়ে গর্বিত। শান্তিতে ঘুমাও বাবা।’
ফাইনালে যখন কারমোনা গোল করেছিলেন, তখন উদযাপনের সময় জার্সি উঁচিয়ে তার আন্ডারশার্টে লেখা ‘মার্চি’ শব্দটি দেখান। নিজের বন্ধুর সদ্যপ্রয়াত মাকে স্মরণ করে তিনি এমন করেছিলেন। অথচ ম্যাচের পর বাবার মৃত্যু সংবাদ পান।
শুধুমাত্র ফাইনালেই নয়, সেমিতেও গোল করে স্পেনের ত্রাতা হয়েছিলেন কারমোনা। গত মঙ্গলবার সুইডেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালের ৮৯তম মিনিটে একটি দুর্দান্ত গোল করেছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিবৃতিতে আরএফইএফ লিখেছে, ‘আমরা গভীরভাবে শোকাহত, কারণ আমাদের ওলগা কারমোনার বাবার মৃত্যুর ঘোষণা করতে হচ্ছে। কারমোনা বিশ্বকাপ ফাইনালের পর দুঃখজনক খবরটি জানতে পেরেছেন। গভীর দুঃখের এই সময়ে আমরা ওলগা এবং তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আমরা তোমাকে ভালোবাসি ওলগা, তুমি স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসের অংশ।’
কারমোনার ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদও শোক প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে ক্লাবটির পক্ষে বলা হয়েছে, ‘আমাদের খেলোয়াড় ওলগা কারমোনার বাবার মৃত্যুতে রিয়াল মাদ্রিদ, ক্লাব সভাপতি এবং পরিচালনা পর্ষদ গভীরভাবে শোকাহত। ওলগা ও তার পরিবার এবং তার সকল প্রিয়জনের প্রতি আমাদের সমবেদনা এবং আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’







