এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ভারত, গোয়া থেকে: মেয়েদের সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক শিরোপার মিশন নিয়ে ভারতে এসেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই মিশন সফল হল না পিটার বাটলার শিষ্যদের। ফাইনালে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হার দেখেছে লাল-সুবজের মেয়েরা। তাতে ষষ্ঠবারের মত সাফ শিরোপা জিতল ভারত। রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো মারিয়া মান্দাদের।
গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে শিরোপা মহারণে নেমেই প্রথম আক্রমণ করে বাংলাদেশ, যদিও কার্যকরী ছিল না তেমন। ষষ্ঠ মিনিটে বাংলাদেশের গোলমুখে প্রথম আক্রমণ করে ভারত। দশম মিনিটে আরও একটি সুযোগ পায় তারা, জটলা করেও বিপদ ঘটাতে পারেনি।
১২ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে ভালো সুযোগ পান শামসুন্নাহার জুনিয়র এবং ১৪ মিনিটে তহুরা খাতুন আরও ভালো সুযোগ পেয়ে ভারতীয় গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেনি বাংলাদেশ। দুই মিনিটের মধ্যে এই দুটি ছিল বাংলাদেশের সুবর্ণ সুযোগ।
১৬ মিনিটে ভারত ডি বক্সের আগে জটলা তৈরি করলে গোলবার ছেড়ে বেরিয়ে আসেন গোলকিপার মিলি আক্তার। ভারতের লেফট উইং মনিষা জোরালো শট নিলে বারের সামান্য উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। এ যাত্রায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ।
পরের ১০ মিনিট দুদলের খেলোয়াড়েরা কিছুটা এলোমেলো খেলতে থাকে। পানি পানের বিরতির পর ভারতের নেয়া একটি হেড বাংলাদেশের মাঝে একটু কাঁপুনি ধরায়। পরে আবারও মিলি বল ধরতে না পারলেও বিপদ হয়নি।
৩৮ মিনিটে ভারতের দারুণ সুযোগ ছিল ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার। তবে মিলি আক্তারের দুর্দান্ত সেভ এ যাত্রায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ। পরের মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সেই সুযোগ আসে ভারতের, ৪২ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে গোল করেন পিয়ারি জাজা, ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ভারত।
গোল হজমের পর ৪৪ মিনিট আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর দূরপাল্লার শট ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার পান্থোই চানু। এরপর যোগ করা সময়ে তহুরা খাতুনের পাসে ঋতুপর্ণা চাকমার গোলে ১-১ সমতায় আসে বাংলাদেশ।
বিরতি থেকে ফিরেই গোল পেয়ে এগিয়ে যায় ভারত। ৪৬ মিনিটে গোল করে ভারতকে এগিয়ে দেন সানফিদা নংরুম। ৫০ মিনিটে সমতায় আসার সুযোগ আসে বাংলাদেশের, ঋতুর নেয়া কর্নার শট থেকে শামসুন্নাহার জুনিয়রের হেড বারের উপর দিয়ে চলে যায়।
৫৪ মিনিটে মারিয়ার ডি বক্সের বাইরে থেকে নেয়া শট ঠেকিয়ে দেন ভারতের গোলকিপার পান্থোই চানু। তবে ৬৪ ও ৬৫ মিনিটে মনিষা কল্যাণ ও পিয়ারি জাজার নেয়া দুটি শট গোলবারের বাইরে দিয়ে চলে যায়, বেঁচে যায় বাংলাদেশ।
ম্যাচের ৭২ মিনিটে তহুরা খাতুনকে তুলে নিয়ে সাগরিকাকে নামান পিটার বাটলার। ৮৩ মিনিটে আফঈদা ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বল চলে যায় ডি বক্সে লিন্ডা কম সারতোর কাছে, সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় ভারত।
শেষ দিকে আর গোল করতে পারেনি কোনো দল। পরে ওই ৩-১ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে পিটার জেমস বাটলারের শিষ্যরা।







