বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে জাতীয় দলের ব্যস্ততা শেষ হয়েছিল বেশ কয়েকদিন আগেই। এবার ঘরোয়া ক্রিকেট দিয়ে মাঠে ফিরছেন নিগার সুলতানা জ্যোতিরা। বুধবার গড়াতে চলেছে মেয়েদের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল)। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন মঙ্গলবার মিরপুরে টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
এবারের লিগে দল কমেছে একটি। গত আসরে তৃতীয় এবং এর আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন রূপালি ব্যাংক এবার নেই। ৯ দলের লড়াইয়ে গড়াবে লিগ। বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল নটায় গড়াবে আসরের উদ্বোধনী ম্যাচ। গতবারের চ্যাম্পিয়ন সালমা খাতুনের মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের মুখোমুখি হবে ও নিগার সুলতানা জ্যোতির শেলটেক ক্রিকেট একাডেমি।
উদ্বোধনী দিনে আরও দুটি ম্যাচ আছে। বিকেএসপিতে আবাহনী লিমিটেড লড়বে বাংলাদেশ পুলিশ ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে, ইউল্যাব মাঠে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির প্রতিপক্ষ গুলশান ইয়ুথ ক্রিকেট ক্লাব। টুর্নামেন্টের বাকি তিন দল- বিকেএসপি, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি উইমেন’স ক্রিকেট টিম এবং কলাবাগান ক্রীড়া চক্র।
মঙ্গলবার শের-ই-বাংলায় ট্রফি উন্মোচন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আক্ষেপের কথাই শোনালেন জাতীয় দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। মেয়েদের লিগ নিয়মিত না হওয়া, ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্ট কম থাকা নিয়েই আক্ষেপ শেলটেক অধিনায়কের।
‘অনেক সময় মেয়ে ক্রিকেটারদের প্রতি অবিচার করা হয়। কারণ আমরা সবসময় এমন ক্রিকেটের মধ্যে থাকতে পারি না। আমি আমার ক্যারিয়ারে ২০১১ সালের পর এই প্রথম লিগ ম্যাচ খেলছি মিরপুরে। আবার (জাতীয়) দলের বাইরে যারা থাকেন, তাদের নিজেদের প্রমাণ করার জায়গাই ঘরোয়া লিগ। সেই ঘরোয়া লিগ যদি ধারাবাহিকভাবে না খেলা হয় বা পরিমাণ না বাড়ানো হয়, তাহলে অনেক ক্রিকেটারের জন্য এটা দুঃখজনক।’
মাঠ সমস্যা ও ঠাসা সূচির মধ্যেও লিগ আয়োজনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশও করেছেন জ্যোতি। সেই সঙ্গে ক্রিকেটারদের সামনে সুযোগের কথাও বলেছেন তিনি। জ্যোতির ভাষ্যে, ‘কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলার জায়গা হবে ক্রিকেটারদের জন্য। জাতীয় দলের দুয়ার সবসময় সবার জন্য খোলা, যারাই ভালো করবেন, তারাই আসবেন। স্থায়ী কিছু নেই। প্রতিটি ক্রিকেটারের জন্য এটি তাই চ্যালেঞ্জ। সবাই তো ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন করেন। অনেকে বিভিন্ন একাডেমিতে নিজে খরচ করে অনুশীলন করে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে এই টুর্নামেন্ট খেলতে আসেন। তাদের জন্য এটি বড় সুযোগ নিজেদেরকে মেলে ধরার।’
ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ালিফায়ার সামনে রেখে ডিপিএলকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন জ্যোতি। বলেছেন, ‘সামনে যেহেতু আমাদের কোয়ালিফায়ার আছে, এর আগে এই টুর্নামেন্ট আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কদিন আগে আমরা চার দিনের একটি ক্যাম্প করেছি। যে ক্রিকেটাররা সেখানে ছিল, বেশির ভাগই বিভিন্ন ক্লাবের ক্রিকেটার। সেখানেও এভাবে সবাইকে বলা হয়েছে যে, এই টুর্নামেন্ট যেন আমরা সেই ভিত্তিতেই খেলি, যেভাবে আমরা নিজেদের দেখতে চাই কোয়ালিফায়ারে। এখানে যদি আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, সেটির প্রভাব কোয়ালিফায়ারে পড়বে।’








