যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তার গুলিতে মার্কিন নারী নিহতের ঘটনায় গত কয়েকদিন ধরে তীব্র বিক্ষোভ চলছে।
এর মধ্যেই সেখানে এক ব্যক্তিকে আটক করায় আইসিই এজেন্টদের সাথে গতকাল বুধবার রাত থেকে আজ বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত স্থানীয়দের ব্যাপক সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইসিই এজেন্টরা টিয়ার গ্যাস এবং পিপার স্প্রে ব্যবহার করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে বিষয়টি জানা গেছে।
বুধবার ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের সময় এক আইসিই এজেন্ট সন্দেহভাজন এক অবৈধ অভিবাসীর পায়ে গুলি করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি গ্রেপ্তারের সময় প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং হিংস্রভাবে কর্মকর্তার ওপর হামলা চালায়। এতে নিজের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থেকেই এজেন্ট গুলি ছোড়েন।
সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থা স্থিতিশীল, বর্তমানে তিনি হেফাজতে রয়েছেন। অন্যদিকে, আইসিই এজেন্টকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনার আগে গত সপ্তাহে মিনিয়াপোলিসে আরেকটি এমন ঘটনা ঘটে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রেনে নিকোল গুড গুলিতে নিহত হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মুখোশ পরা আইসিই এজেন্ট জোনাথন রস গাড়ির পাশ থেকে চালকের উইন্ডশিল্ড ও খোলা জানালা লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এরপর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশে রাখা আরেকটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেলে তিনি অশালীন ভাষায় চিৎকার করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা ওই গুলিকে হত্যাকাণ্ড আখ্যা দিয়ে রসের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা ঘটনাটিকে ন্যায্য গুলিবর্ষণ বলে দাবি করে এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
সর্বশেষ গুলির ঘটনার পর বুধবারও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। বিক্ষোভকারীরা হর্ন ও শিস বাজান, আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও ‘পেপার বল’ ব্যবহার করে।
ঘটনাস্থলে অন্তত একশ’ মানুষ জড়ো হয়। এ সময় কর্মকর্তারা পেপার স্প্রে ছোড়েন, পেপার বল নিক্ষেপ করেন এবং ‘ফ্ল্যাশ ব্যাং’ ব্যবহার করেন। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা এজেন্টদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেন। তারা আইসিইকে শহর ছাড়ার আহ্বান জানান।
মিনিয়াপোলিসের পুলিশপ্রধান ব্রায়ান ওহারা বলেন, একদল মানুষ আতশবাজি ছুঁড়ে কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে “অবৈধ কার্যকলাপ” চালাচ্ছিল। তিনি সবাইকে “অবিলম্বে এলাকা ত্যাগ করার” আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “এটি ইতোমধ্যেই অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। আমরা চাই না এটি আরও সহিংসতায় রূপ নিক।”
মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ গুলির ঘটনার পর শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আহ্বান জানান।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি জানি আপনারা ক্ষুব্ধ। আমিও ক্ষুব্ধ। ডোনাল্ড ট্রাম্প যা চান, তা হলো রাস্তায় সহিংসতা। কিন্তু মিনেসোটা শালীনতা, ন্যায়বিচার, সম্প্রদায় ও শান্তির দ্বীপ হয়েই থাকবে। তাকে তিনি যা চান তা দেবেন না।”
ওয়ালজ মিনেসোটাবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণেও আবার আইসিইকে রাজ্য ছাড়ার আহ্বান জানান।
মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে বলেন, আইসিই স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না।
তিনি বলেন, “মিনিয়াপোলিসে এ বছর এখন পর্যন্ত যতগুলো গুলির ঘটনা ঘটেছে, তার একটি বড় অংশই আইসিইর মাধ্যমে হয়েছে। এতে কোনোভাবেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না। তাই বিষয়টি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আইসিইর আচরণ আমি জঘন্য ও অসহনীয় মনে করি।”
মেয়র শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভকারীদের প্রশংসা করলেও সতর্ক করে বলেন, কেউ কেউ উসকানিতে পা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অরাজকতার জবাব আমরা আমাদের নিজেদের অরাজকতা দিয়ে দিতে পারি না।







