এই ডিজিটাল যুগে এখন প্রায় সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন। যাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশতে পরিণত হয়েছে এটি। অথচ পকেটে স্মার্টফোন রাখেন না বিশ্বখ্যাত নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান। বছর দুইয়েক আগে এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছিলেন তিনি।
এবার জানা গেল, কেন নোলান তার শুটিং সেটে কাউকে ‘মোবাইল ফোন’ ব্যবহারের অনুমতি দেন না। নিজে ফোন ব্যবহার না করার কারণ হিসেবে আগেই বলেছিলেন,“আমার কতটুকু সময় নিচ্ছে এটি সেটা দেখার বিষয়। এটি আমার মনোযোগ নষ্ট করে। আমি আমার কোনো কাজ সৃষ্টির সময় এবং নিজের স্ক্রিপ্ট লেখার সময় সারাদিন স্মার্টফোন নিয়ে পড়ে থাকতে তার ফলাফল ভালো হবে না এটাই স্বাভাবিক।”
তার এমন কথার প্রতিফলনই মূলত শুটিং সেটে অন্য কাউকে ফোন ব্যবহারের অনুমতি না দেয়া! অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে ক্রু, কারো সাধ্য নেই নোলানের সেটে মোবাইল ফোন ব্যবহারের! নোলানের সাথে কাজ করার প্রথম চুক্তিই থাকে এ বিষয়ে!
ক্রিস্টোফার নোলানের সিনেমার সেটে বহুদিন ধরেই মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ নীতি চালু রয়েছে। এর পিছনের কারণ কী? নোলানের মতে, ফোন হলো একটি বড় ধরনের বিভ্রান্তি। যা মনোযোগ নষ্ট করে। তার মতে, সিনেমার শুটিং সেট এমন একটি জায়গা হওয়া উচিত যেখানে সবাই সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাজ করবে। ফোনের ব্যবহার সেই মনোযোগ নষ্ট করে, যার ফলে কাজের মানও মন্দের দিকে যায়।
ভাবুন, আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের মাঝখানে আছেন, আর কেউ একজন বারবার নোটিফিকেশন চেক করছেন! বিরক্তিকর হবে বিষয়টা, তাই না? এমনটা যেন না হয়, নোলান আগে থেকেই সেই প্রস্তুতি নিয়ে কাজে নামেন। ফোন পুরোপুরি বাদ দিয়ে তিনি নিশ্চিত করেন যে শুটিং সেটে সবাই সম্পূর্ণ উপস্থিত, মনোযোগী এবং কাজে নিবিষ্ট। তার যুক্তি স্পষ্ট, যখন সবার সম্পূর্ণ মনোযোগ একটি বিশেষ কাজের প্রতি থাকে, তখন সবার থেকে সৃজনশীল ভাবনা বেরিয়ে আসে; যা চলমান প্রজেক্টের জন্য সুফল বয়ে আনে। কিন্তু মনোযোগ ব্যাহত হলে সেটা কঠিন হয়ে যায়।
ফটোগ্রাফার এবং চলচ্চিত্র নির্মাতারাও নোলানের এই পদ্ধতি থেকে শিক্ষা নিতে পারেন। কেউ যখন শুটিংয়ে থাকেন, সেটা স্টুডিওতে হোক বা আউটডোর লোকেশনে, লক্ষ্য থাকে একটি সিনেমাটিক বাস্তবতা তৈরি করা। এরজন্য শুধু নির্মাতা বা অভিনয়শিল্পীর নয়, পুরো টিমেরই সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত হওয়া প্রয়োজন। এই কারণেই নোলান শুটিং সেটে সঠিক পরিবেশ তৈরির প্রতি বেশী যত্নশীল।
যে কোনো অবস্থায় সিনেমার মান নিয়ে কম্প্রোমাইজ করতে রাজি নন নোলান। শুটিং সেটে এই নীতিটি কাজের প্রতি তার অঙ্গীকার এবং পেশাদারিত্বের প্রতিফলন। অনেকেই মনে করেন, তার সিনেমা নিখুঁত ও সাফল্যের পেছনে এই ধরনের কঠোর নিয়মগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। –কইমই








