“নিঃস্ব আমি রিক্ত আমি
দেবার কিছু নাই,
আছে শুধু ভালোবাসা,
দিলাম আমি তাই।”- ময়মনসিংহ বিভাগের জনগণের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী
‘বিএনপি নেতারা এতো মিথ্যা কথা বলে কেনো’, এ প্রশ্ন করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন: আমি শুনি বিএনপির কোন এক নেতা আছে, সারাদিন মাইক লাগিয়ে বসে থাকে। বাংলাদেশটাকে নাকি আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি। ময়মনসিংহবাসী আমি আপনাদের জিজ্ঞেস করি, ৭৩টা প্রকল্পসহ মোট ১০৩টা প্রকল্প এটা কী ধ্বংসের নমুনা? আপনারা বলেন, এগুলো কী ধ্বংসের নমুনা, না আপনাদের কাজে। তাহলে ওরা এতো মিথ্যা কথা বলে কেন? আসলে মিথ্যা কথা বলা ওদের বেসাতি (ব্যবসা)।
শনিবার বিকালে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে জনসভায় দেওয়া বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন: আমরা কথা দিয়েছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, সেটা আমরা করেছি। প্রতিটা ঘরে ঘরে আমরা বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। এদেশ ছিল খাদ্য ঘাটতির দেশ। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় এসে খাদ্য ঘাটতি দূর করেছি। ২০০১ সালে আমরা যখন ক্ষমতা হস্তান্তর করি, তখনও ২৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুত রেখে গেছি। ২০০১ সালে আসলো লুটেরা একদল, সন্ত্রাসীর দল বিএনপি। তারা আবার বাংলাদেশকে খাদ্যে ঘাটতির দেশে পরিণত করে। ২০০৯ সালে আবার যখন সরকার গঠন করি, তখন দেখি আবার সেই ২৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি। আল্লাহর রহমতে দেশে এখন আর খাদ্য ঘাটতি নেই। ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য এখন মজুত আছে।
শেখ হাসিনা বলেন: জাতির পিতা দেশেকে স্বাধীন করে যখন দেশে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছিলে তখনই তাকে হত্যা করা হয়। যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছিল তারাই আমাকে দেশে আসতে দেয়নি। দীর্ঘ ছয় বছর আমাকে দেশে আসতে দেয়নি।আমার একটাই লক্ষ্য বঙ্গবন্ধু যে উদ্দেশ্যে নিয়ে এদেশ স্বাধীন করেছে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা।

তিনি আরও বলেন: বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে ময়মনসিংহে চারটি সিনেমা হলে বোমা হামলা করা হয়। আমরা মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করি। আর বিএনপি মানুষের বাড়ি দখল করে। যেসকল মানুষ গৃহহীন ছিল তাদেরকে আমরা ঘর করে দিচ্ছি। ৩৫ লাখ মানুষকে আমরা ঘরে করে দিয়েছি। আরও ৪০ লাখ মানুষকে আমরা ঘর দেব। দেশের শিক্ষাকে আরও এগিয়ে নিতে বিনামূল্যে আমরা বই দিচ্ছি।
বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা চেয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন: বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে এদেশের মানুষের সহযোগিতা চাই। আজ আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলছি বলেই দেশের মানুষ এত সহজে বিভিন্ন সেবা পাচ্ছে।
তিনি এসময় ১০৩টি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। এরমধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগের ৭৩টি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ৩০টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা উন্নয়ন প্রকল্পলোর মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন জায়গায় ছবির ভিত্তিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল, ময়মনসিংহ সদরের চর সিরতায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ডা. মুশফিকুর রহমান শুভ মেমোরিয়াল ইসলামিক মিশন হাসপাতাল, ত্রিশাল উপজেলায় এক হাজার আসন বিশিষ্ট অডিটরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, ময়মনসিংহ জেলায় ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজী, ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁওয়ের চরআলগী ইউনিয়নকে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গন থেকে রক্ষার্থে ভেরি বাঁধ নির্মাণ, ময়মনসিংহ সদর উপজেলা পরিষদ নতুন হসপিটাল নির্মাণ, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় গোরবাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর, জেলা আইনজীবী সমিতির মূলভবন শহীদ এ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম ভবন ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ উদ্বোধন।
এছাড়াও কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল নির্মাণ, শেখ রেহানা হল নির্মাণ, রোজী জামাল হল নির্মাণ, সরকারী আনন্দ মোহন কলেজে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট ৫ তলা ছাত্র হোস্টেল নির্মাণ, বিদ্যুত বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন।








