সাউথ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক-ইয়োল মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করেই মার্শাল ল’ বা সামরিক আইন জারি করেন, যা দেশটির গণতান্ত্রিক ইতিহাসে প্রায় ৫০ বছরে এই প্রথম। ইয়ুন তার জাতীয় ভাষণে দাবি করেন, তিনি রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি ও উত্তর কোরিয়ার হুমকির বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
আজ (৪ডিসেম্বর) বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, মার্শাল ল’ ঘোষণার পেছনে কোনো বাইরের হুমকি নয়, বরং প্রেসিডেন্টের নিজস্ব রাজনৈতিক সংকট ছিল। চলতি বছরের এপ্রিলে বিরোধী দলের জয়ে তার সরকার কার্যত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তার জনপ্রিয়তা ১৭ শতাংশে নেমে আসে। বিভিন্ন দুর্নীতি কেলেঙ্কারি, বিশেষ করে ফার্স্ট লেডির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়িয়ে তোলে।
মার্শাল ল’ ঘোষণার পর, সাউথ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে হাজার হাজার মানুষ সংসদের সামনে প্রতিবাদে জমায়েত হয়। বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা দ্রুত একটি জরুরি ভোটের মাধ্যমে মার্শাল ল’ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন। পরে, সংসদের ভোটে এই পদক্ষেপ বাতিল হয় এবং প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সেই ফল মেনে নেন।
মার্শাল ল-আই হলো একটি সাময়িক শাসন ব্যবস্থা, যেখানে নাগরিক কর্তৃপক্ষ কার্যকরভাবে কাজ করতে অক্ষম হলে সামরিক বাহিনী শাসন প্রতিষ্ঠা করে। এটি দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বশেষ ১৯৭৯ সালে ঘোষণা করা হয়েছিল, যখন সামরিক শাসক পার্ক চুং-হি হত্যা হন। ১৯৮৭ সালে দেশটি সংসদীয় গণতন্ত্রে রূপান্তরিত হওয়ার পর থেকে এটি আর কখনো ব্যবহৃত হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ইয়ুনের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্রের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটি দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে, এমনকি ২০২১ সালের মার্কিন ক্যাপিটাল হামলার চেয়েও মারাত্মক হতে পারে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, এই অস্বাভাবিক পদক্ষেপের পর দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিতে কী পরিবর্তন আসবে এবং প্রেসিডেন্ট ইয়ুনের ভবিষ্যত কী হবে।







