চলমান ছাত্র আন্দোলনে সংহতি জানাতে দলবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নেমেছেন সংগীতশিল্পীরা। শনিবার দুপুর ৩টায় ধানমন্ডিতে ছিলো তাদের সমাবেশ। কিন্তু একই সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের সমাবেশ থাকায় শহীদ মিনারে ছুটে যান শিল্পীরাও।
তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে উপস্থিত হয়েছিলেন সংগীতশিল্পীরা। সেসময় তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় নিহত, গণগ্রেপ্তার ও হয়রানির প্রতিবাদ করেন।
এসময় বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখিন সংগীতশিল্পীরা। উপস্থিত মানুষের মধ্যে একজন সংগীতশিল্পীদের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, তারা কেন রাস্তায় নামতে এতো দেরী করলেন? এসময় শিল্পীদের মধ্য থেকে অনেকই জবাব দেয়ার চেষ্টা করেন।

গীতিকার প্রিন্স মাহমুদ বলেন, কে বলেছে সংগীতের মানুষেরা এখন নামলো? আমি ব্যক্তিগতভাবে তো প্রথম দিন থেকেই ছাত্রদের যৌক্তিক দাবীগুলোর সাথে ছিলাম। এসময় পাশ থেকে আরেক জনপ্রিয় গীতিকবি লতিফুল ইসলাম শিবলীও একই কথা বলেন। তারা জানান, শিল্পীরা প্রত্যেকে ইন্ডিভিজ্যুয়ালি ছাত্রদের দাবীর সাথে একমত ছিলো।
পরে ছাত্রদের সাথে সংহতি জানিয়ে কথা বলেন মাকসুদ, হামিন আহমেদসহ অনেকে। কথা বলার এক পর্যায়ে আবারো সংগীতশিল্পীদের রাস্তায় নামতে এতো সময় লাগার প্রসঙ্গ এলে ‘ক্রিপটিক ফেইট’ ব্যান্ডের ভোকালিস্ট শাকিব চৌধুরী কথা বলেন।
তিনি স্পষ্টভাবে নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়ে বলেন,“একজন প্রশ্ন করেছিলেন, আমাদের এত দিন (প্রতিবাদ জানাতে) লাগল কেন? কারণ, আমরা ভয় পাই। এই সরকারকে আমরা ভয় পাই। ছাত্ররা আমাদের ভয় ভেঙে দিয়েছে।”
এরআগে শাকিব বলেন, “আমাদের বন্দুক দিয়ে আমাদের ছাত্র, আমাদের জনতা মারা হচ্ছে; এটা ’৫২, ’৬৯-এ হয়েছিল, ৭১ সালে পাকিস্তানিরা মেরেছে। আলজাজিরার ভিডিওতে দেখা গেছে, হেলিকপ্টার থেকে গুলি করা হচ্ছে; এখানে কি গৃহযুদ্ধ হচ্ছে? আমরা কি শত্রু? ছাত্ররা কি শত্রু?”
এসময় সমবেত সব সংগীতশিল্পীই ‘আওয়াজ উডা’ খ্যাত তরুণ র্যাপার হান্নানের গ্রেপ্তারির নিন্দা জানিয়ে তার মুক্তি দাবী করেন। ‘ব্যান্ড মাকসুদ ও ঢাকা’র প্রধান গায়ক মাকসুদ বলেন, “আমরা ছাত্রদের সাথে আছি। তাদের উপর সমস্ত অন্যায় নিপীড়ন বন্ধ চাই। আমাদের যে র্যাপার ভাই জেলে আছে তার মুক্তি চাই। শুধু সেই র্যাপার নয়, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি দেখতে চাই।”
সদ্য ভাই হারানো ‘মাইলস’-এর হামিন আহমেদ বলেন, “আমরা শিল্পীরা সব এক সাথে আপনাদের পাশে আছি। আমাদের একটা কথা পরিস্কারভাবে আপনাদের জানিয়ে দেই, আর যেন একটা গুলিও না চলে, একটা জীবনও যেন না যায়। এবং যাদেরকে ধরপাকড় করা হয়েছে তাদের অবিলম্বে মুক্তি চাই।”






