নব-নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনকে দলীয় মনোনয়নে বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন: ‘তিনি (সাহাবুদ্দিন) একজন পোড় খাওয়া মানুষ, একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার মধ্যে দায়িত্ববোধ, রাজনৈতিক সচেতনতা, দেশপ্রেম ও ব্যক্তিত্ব আছে। আমি বিশ্বাস করি, তার সব সময় এ প্রচেষ্টা থাকবে নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হয়।
সোমবার বিকালে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি ৫ : সম্ভাবনা থেকে সমৃদ্ধি) পঞ্চম জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগ দিয়ে কাতার থেকে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী নব-নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির অতীত ইতিহাস তুলে ধরে বলেন: পঁচাত্তরের পরে জিয়াউর রহমান তাকে গ্রেপ্তার করে ডাণ্ডাবেড়ি দিয়ে রেখেছিলেন। কারণ তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেছিলেন। এই ধরনের জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য থেকেই তিনি উঠে এসেছেন। কখনও নামটাম তেমন একটা প্রচার করতে পারেননি এবং তা চাননি। দীর্ঘদিন তিনি জুডিশিয়াল সার্ভিসে চাকরি করেছেন। পরে বিএনপির সময় চাকরি ছাড়তে বাধ্যও হয়েছেন।
তিনি আরও বলে: আমরা চাইব যেন অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। তারও (মোঃ সাহাবুদ্দিন) সবসময় এই প্রচেষ্টাই থাকবে নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। কারণ গণতন্ত্রের জন্য আমরা সংগ্রাম করেছি।
গণতন্ত্রের জন্য আওয়ামী লীগের সংগ্রাম তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন: সারাজীবন মিলিটারি ডিক্টেটরদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, এরশাদ, জিয়া, এরপর আবার আর্মি ব্যাক সরকার অথবা আর্মি অফিসারের স্ত্রীর সরকার। এরকম বহু জিনিস আমরা দেখেছি। এরকম দেখতে দেখতে ২০০৯ সাল থেকে জনগণের সক্ষমতা জনগণের হাতে দিতে পেরেছি।
১৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদে মোঃ সাহাবুদ্দিনকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৩ এপ্রিল। নব-নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ২৪ এপ্রিল দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে কাতার সফরের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গত ৪ মার্চ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি ৫ : সম্ভাবনা থেকে সমৃদ্ধি) পঞ্চম জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগ দিতে কাতার সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে দেশটি সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিভিন্ন ইভেন্টে তিনি অংশ নেন।
এর মধ্যে ৫ মার্চ জাতিসংঘ সম্মেলনের সাইডলাইনে কাতার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (কিউএনসিসি) আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর স্মুথ অ্যান্ড সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন : মার্চিং টুওয়ার্ডস স্মার্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। এ সময় তাদের সামনে পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন তিনি।
৬ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।
৭ মার্চ ‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক একীভূতকরণে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন তিনি।
গত ৮ মার্চ বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ভিভিআইপি ফ্লাইট (বিজি-১২৬) তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।







