‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। এখানে জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই। যারা ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ ছড়াচ্ছে তারা আসলে ইসলামচ্যুত। নিজেরা বিভ্রান্ত হয়ে মানুষকেও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।প্রতিটি মুসলমানের উচিত এদের কথায় বিভ্রান্ত না হওয়া এবং এদেরকে প্রতিহত করা।’
এমনটাই মনে করেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত উলামা-মাশায়াখ সম্মেলনে যোগ দিতে আসা বিভিন্ন মসজিদের ইমাম এবং মাদ্রাসা শিক্ষকেরা।
বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়া জঙ্গিবাদের ভয়াবহ থাবা সম্প্রতি বিস্তৃত হতে শুরু করেছে বাংলাদেশে।ইসলাম ধর্মের নামে যে জঙ্গিবাদ ছড়ানো হচ্ছে সে ইসলাম আসলে জঙ্গিবাদ সম্পর্কে কী বলে? এ বিষয়ে চ্যানেল আই অনলাইন কথা বলেছে ইমাম ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের সঙ্গে।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা মসজিদ লাইব্রেরির সভাপতি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সদস্য মোজাম্মেল হক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। এই ধর্মে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখার কথা বলা হয়েছে। কাউকে হত্যাতো দুরের কথা কারও প্রতি জুলুম করাও ইসলামে সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ। সেখানে ধর্মের নামে মানুষ হত্যা কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। যারা এসব করে তারা ইসলামচ্যুত। নিজেরা বিভ্রান্ত হয়ে অন্য মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’
জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে ইসলামিক ফাউন্ডেশন তৃণমূলে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে জানতে চাইলে ফাউন্ডেশনের এ সদস্য বলেন, আমরা মসজিদ মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের এ ব্যাপারে সচেতন করার জন্য নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছি।
‘যে একজন মানুষকে হত্যা করলো সে যেন পুরো মানবজাতিকে হত্যা করলো’ পবিত্র কুরআন থেকে উদ্ধৃত করে যশোরের চৌগাছা উপজেলার রুস্তমপুর খানকাহ শরীফ মাদ্রাসার শিক্ষক রবিউল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন. নবী করিম(স.) থেকে শুরু করে খোলাফায়ে রাশেদিনের আমলে কখনও মানুষের ওপর জুলুম অন্যায় করা হয়নি তারা যে ধর্মেরই হোক। কিন্তু ধর্মের নামে যারা মানুষ হত্যা করছে এদের সঙ্গে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। তারা ভুলভাবে ধর্মকে ব্যাখ্যা করে এবং ভুল মতবাদের শিকার হয়ে বরং ধর্মেরই ক্ষতি করছে।
নীলফামারির ডিমলা উপজেলার একটি মাদ্রসার একজন শিক্ষক বলেন, ‘প্রকৃত ইসলাম বুঝলে বা কুরআন ঠিকমত বুঝতে পারলে জঙ্গিবাদে জড়ানো সম্ভব নয়। যারা জড়িয়েছে তারা পবিত্র কুরআনের ভুল ব্যাখ্যায় অনুপ্রাণিত হয়েছে।’
তাই প্রকৃত ইসলাম এবং কুরআনের সঠিক অর্থ কাউকে বোঝাতে পারলে জঙ্গিবাদে জড়ানোর সম্ভাবনা থাকবে না বলে মনে করেন এ শিক্ষক।
একই মতামত তুলে ধরেন চুয়াডাঙ্গার গোপালপুর উপজেলার একজন মাদ্রসা শিক্ষক ও ইমাম, রঙপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার একটি মসজিদের ইমামসহ অন্যরা।








