পৃথিবীর ভূত্বক কোনো স্থির বা শক্ত একক স্তর নয়; বরং এটি বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত, যেগুলোকে বলা হয় টেকটনিক প্লেট।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্লেটগুলো ধীর কিন্তু ধারাবাহিক নড়াচড়াই পৃথিবীতে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং নতুন পাহাড়-পর্বত সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ।
শুক্রবার রাজধানীসহ সারাদেশে সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী। ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭। ভূমিকম্পে এক শিশুসহ কমপক্ষে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ঢাকার বংশালের কসাইটুলিতে ৩, নরসিংদীতে ২ এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দেশের বিভিন্ন অংশে প্রায় ৬৭জন আহত হয়েছে।
ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পৃথিবীর উপরের স্তরে থাকা এসব প্লেট প্রতি বছর কয়েক সেন্টিমিটার হারে সরে যায়। তবে এই নড়াচড়া যখন হঠাৎ সংঘর্ষে পরিণত হয়, তখন সৃষ্টি হয় তীব্র ভূকম্প।
বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতীয় ও ইউরেশীয় প্লেটের সংযোগস্থলের নিকটে অবস্থান করায় এই অঞ্চলটি বিশেষভাবে ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ।
ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, টেকটনিক প্লেটের গভীর গতিবিধি আমরা চোখে দেখতে না পেলেও এর প্রভাব ভয়াবহ। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও শক্ত ভবন নির্মাণ ছাড়া ভূমিকম্পের ভয়াবহতা কমানো সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত ভূকম্প পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু, পুরনো ভবনগুলো ঝুঁকিমুক্ত করা এবং জনগণকে সচেতন করাই ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবিলার প্রধান উপায়।
এর আগে চলতি বছরের ৫ মার্চ রাজধানীতে মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। তারও আগে ২৮ মে বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টা ২৪ মিনিটের দিকে ভারতের মণিপুর রাজ্যের মোইরাং শহরের কাছাকাছি এলাকায় আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই সময়ও ভূমিকম্পে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় হালকা কম্পন অনুভূত হয়েছিল।








