অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল করেন। তাদের মতে, ১০ মিনিট গরম পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা শরীর ও মনকে জাগিয়ে তোলে, দিন শুরুর জন্য তারা আরও প্রস্তুত বোধ করেন। অন্যদিকে, যারা রাতে গোসল করেন, তাদের যুক্তি হলো—সারাদিনের ধুলাবালি, ঘাম ও জীবাণু ধুয়ে ফেলে পরিষ্কার হয়ে ঘুমালে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে। ঘুমও হয় আরামদায়ক। তবে যারা নিয়মিত গোসল করেন, তাদের সকলেরই এই প্রশ্ন—সকালে গোসল ভালো, নাকি রাতে?
শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, গোসল আমাদের ত্বক থেকে ঘাম, তেল, ধুলাবালি ও ব্যাকটেরিয়া ধুয়ে দেয়। দিনের শেষে এইসব উপাদান যদি শরীরে থেকেই যায়, তাহলে তা বিছানার চাদর ও বালিশে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে জমে ওঠে জীবাণু, ছত্রাক, এবং ধূলিকণার স্তর—যা অনেক সময় অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের মাইক্রোবায়োলজিস্ট প্রিমরোজ ফ্রিস্টোন জানান, রাতে গোসল করে ঘুমালেও ঘুমের মধ্যে আমরা ঘামি, এবং শরীর থেকে প্রায় অর্ধ পিন্ট ঘাম ও হাজার হাজার ত্বকের কোষ বিছানায় পড়ে। এগুলো ডাস্ট মাইটের জন্য আদর্শ খাবার।
গবেষক হলি উইলকিনসন বলেন, আপনি যদি রাতে গোসল করে বিছানায় যান, কিন্তু মাসখানেক ধরে চাদর না পরিষ্কার করেন, তাহলে তাতে জীবাণু, ময়লা ও ধুলা জমে ক্ষতি হতে পারে। এছাড়াও, নিয়মিত না ধোয়া চাদর-বালিশে ছত্রাক জন্মাতে পারে, যা হাঁপানি বা অ্যালার্জি থাকা ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমানোর এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে ১০ মিনিট গরম পানিতে গোসল করলে দ্রুত ঘুম আসে। শরীরের তাপমাত্রা ওঠানামা করলে ঘুম আসার প্রাকৃতিক সংকেত সক্রিয় হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল করলে রাতের ঘাম ও ব্যাকটেরিয়া দূর হয়। ফলে আপনি নিজেকে আরও সতেজ ও পরিষ্কার বোধ করেন, যা কর্মক্ষমতা বাড়ায়।
উইলকিনসনের মতে, আপনি দিনে একবার গোসল করছেন—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেটা সকাল হোক বা রাত, খুব বেশি পার্থক্য পড়ে না। কিন্তু পরিষ্কার বিছানা রাখা আরও বেশি জরুরি। যারা মাঠে কাজ করেন—যেমন কৃষক, নির্মাণ শ্রমিক—তাদের জন্য রাতে গোসল করা ভালো। আবার যারা অফিসে বসে কাজ করেন, তাদের জন্য সকাল বা রাত—দুটোই চলতে পারে।
গোসল হোক সকালে বা রাতে—প্রধান বিষয় হলো পরিচ্ছন্ন থাকা। শুধু শরীর নয়, বিছানাও রাখতে হবে পরিষ্কার। তবেই নিশ্চিত হবে স্বাস্থ্যকর ঘুম ও ভালো থাকা। নিয়মিত গোসল করুন, আর সেইসাথে পরিষ্কার রাখুন আপনার চাদর, বালিশ ও বিছানা। দিনের শেষে, আপনি কখন গোসল করবেন—তা নির্ভর করে আপনার সময়, কাজের ধরন ও অভ্যাসের ওপর।







