জেনারেশন জেড (জেন জি)-এর নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে তারুণ্যনির্ভর দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ছয়টি আসন পেয়েছে। এতে বোঝা গেছে, রাজপথের আন্দোলনের গতি ভোটে রূপান্তর করা কতটা কঠিন।
গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ভোটাররা বিপুলভাবে বেছে নিয়েছেন দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত দল জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে, যারা এর আগে তিনবার দেশ শাসন করেছে।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের আন্দোলন থেকে উঠে আসা এনসিপি প্রত্যাশিত ফল পায়নি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে ক্ষমতাচ্যুত করা সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় দলটি গঠিত হলেও জোটের অংশ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি।
জোট নিয়ে ক্ষোভ
এনসিপির অনেক সমর্থক মনে করেন, ডিসেম্বর মাসে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দলটির ক্ষতি করেছে। প্রথমে প্রায় সব আসনে লড়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত জোটের অংশ হিসেবে মাত্র ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তারা।
২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান বলেন, “২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর মানুষ যে আশা করেছিল, এনসিপি তা পূরণ করতে পারেনি। জামায়াতের সঙ্গে জোট আমাদের কাছে বিশ্বাসঘাতকতার মতো লেগেছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগ পর্যাপ্ত সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়াও এনসিপির দুর্বল ফলের কারণ।
এনসিপির জয়ী ছয়জনের একজন, ৩২ বছর বয়সী আইনজীবী ও যুগ্ম মহাসচিব আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, দলটি আরও বেশি আসন জয়ের আশা করেছিল এবং কয়েকটি আসনে অল্প ব্যবধানে হেরেছে।
তিনি বলেন, “আমরা এখনই যাত্রা শুরু করেছি। জুলাই ২০২৪-এ রাস্তায় নেমে যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই বাস্তব পরিবর্তনের দীর্ঘ পথে আমরা হাঁটতে চাই।”
পুরনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন?
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শাকিল আহমেদ মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট তরুণ ভোটারদের দূরে সরিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, “অনেকে এটিকে পুরনো রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া হিসেবে দেখেছেন। এতে যুব ভোট বিভক্ত হয়েছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি বেশি সংগঠিত ও শাসনক্ষম বলে প্রতীয়মান হয়েছে।”
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, দলটি এখন বিরোধী দলে থেকে সংগঠন পুনর্গঠন করবে এবং আগামী বছরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোযোগ দেবে।
তরুণ প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জ
উল্লেখযোগ্য তরুণ পরাজিতদের মধ্যে ছিলেন ৩১ বছর বয়সী চিকিৎসক তাসনিম জারা। তিনি ডিসেম্বরের জোট সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এনসিপি ছাড়েন এবং ঢাকা থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেলেও বিএনপি প্রার্থীর কাছে বড় ব্যবধানে হেরে যান।
তাসনিম জারা বলেন, “সৎ ও পরিচ্ছন্ন প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করা সম্ভব—আমরা তা দেখিয়েছি। তবে আমাদের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। পরিচ্ছন্ন রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে হলে শক্ত সংগঠন গড়তে হবে।”
তিনি জানান, যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা পেশায় ফিরে না গিয়ে দেশে থেকেই রাজনৈতিক কাজ চালিয়ে যাবেন।
তাসনিম জারা বরেন, “আমাদের সেরা দিনগুলো এখনও সামনে।”








