শুক্রবার সকালে ঢাকায় অনুভূত ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন মাত্রার কম্পন সাধারণ ঘটনা– এতে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকা বেশি প্রয়োজন। ঢাকায় বড় মাত্রার ভূমিকম্প হবে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মাঝে ভিন্ন মত রয়েছে।
ভূতাত্ত্বিক মকবুল ই ইলাহী বলেন, ঢাকা প্লেট বাউন্ডারি থেকে অনেক দূরে, তাই বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি তুলনামূলক কম। তার ভাষায়, “প্লেট বাউন্ডারিতে বড় ভূমিকম্প হলেও ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই সেটি দুর্বল হয়ে আসে। গত ৪০০ বছরের ইতিহাসও একই ইঙ্গিত দেয়।”
বাংলাদেশকে তিনটি ভূকম্পন–ঝুঁকিপূর্ণ জোনে ভাগ করা হয়েছে।
উচ্চ ঝুঁকির জোন: সিলেট, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার
মধ্যম ঝুঁকির জোন: ঢাকা ও চট্টগ্রাম
নিম্ন ঝুঁকির জোন: পশ্চিম ও দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক জিল্লুর রহমান বলেন, ৬ মাত্রার নিচে ভূমিকম্প সাধারণত আতঙ্কের কারণ নয়। তিনি জানান, বাংলাদেশের মধ্যবর্তী যে ফাটলরেখা আঁকা হয়, সেখানে অতীতে বড় ভূমিকম্পের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
১৯৭৬ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে পাঁচ বা ততোধিক মাত্রার প্রায় সব কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেট, মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার অঞ্চল। এসব এলাকায় ভবিষ্যতে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকম্প গবেষক মেহেদি আহমেদ আনসারী মনে করেন, বড় ভূমিকম্পের আগে ছোট–মাঝারি কম্পন ঘটে থাকে-এগুলো আগাম সংকেত হতে পারে।
তিনি বলেন, “এক অঞ্চল সাধারণত ১০০ থেকে ১৫০ বছর পর একটি বড় ভূমিকম্পের মুখোমুখি হয়।” বাংলাদেশে সর্বশেষ বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়েছিল প্রায় এক শতাব্দী আগে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণ বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোতে অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।
ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, ১৯২৩ সালে কিশোরগঞ্জের কাছে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকায় বড় ক্ষতি হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের সার্বিক পরামর্শ- আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ও প্রস্তুতিই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর প্রধান উপায়।








