ইউক্রেন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া আলোচনায় ইউরোপের উদ্বেগের মূল কারণ হলো, এই আলোচনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ না থাকায় তারা তাদের নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থ সম্পর্কে চিন্তিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে আসছে, কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি কম মনোযোগ দেওয়ায় ইউরোপীয় নেতারা তাদের নিরাপত্তা ও ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের রাশিয়ার সাথে সরাসরি আলোচনার চাপ এবং ইউক্রেনীয় বা ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা ইউরোপকে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তারা আশঙ্কা করছে যে ওয়াশিংটন এবং মস্কোর মধ্যে কোনো চুক্তি ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোকে দুর্বল করে দিতে পারে, বিশেষত পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর জন্য, যারা রাশিয়ার আগ্রাসনের মুখে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, ইউক্রেনকে নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রদান এবং শান্তিরক্ষী মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করছেন। তবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের অভাব এবং মার্কিন সমর্থন ছাড়াই ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী মোতায়েনের বিষয়ে বিভক্তি রয়েছে।
সৌদি আরবে মার্কিন-রাশিয়ার আলোচনা ইউরোপের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ এই আলোচনায় ইউক্রেন বা ইউরোপের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় তারা মনে করছে যে তাদের স্বার্থ উপেক্ষিত হতে পারে। ইউরোপীয় নেতারা এখন নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কম নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন।
সামগ্রিকভাবে, ইউরোপের উদ্বেগের মূল কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া আলোচনায় তাদের সরাসরি অংশগ্রহণ না থাকা এবং এই আলোচনার ফলাফল ইউরোপের নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।







