১১১ বছর আগে হিমবাহের সাথে ধাক্কা খেয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে গিয়েছিল ‘টাইটানিক’। মহাসাগরের প্রায় সাড়ে চার হাজার মিটার নীচে এখনও রয়েছে তার ধ্বংসাবশেষ। একটি পর্যটন সংস্থা টাইটানিকের সেই ধ্বংসাবশেষ দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল পর্যটকদের। তবে ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়ে পর্যটকসহ নিখোঁজ হয়ে যায় সাবমেরিনটি। সাবমেরিনটি নিখোঁজ হওয়ার পর পরই আটলান্টিকে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান শেষে গতকাল খোঁজ মেলে সাবমেরিনটির।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার একটি কানাডিয়ান জাহাজ নিখোঁজ সাবমেরিনটির ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ খুঁজে পেয়েছে। এটি টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ থেকে মাত্র ১৬০০ ফুট দূরে খুঁজে পাওয়া যায়। যে অংশগুলো পাওয়া গেছে তাতে রয়েছে, লেজের দিকের কিছু অংশ, একটি ল্যান্ডিং ফ্রেম।
হারিয়ে যাওয়া ডুবোযান টাইটানে বিস্ফোরণ হয়েছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড। এছাড়া সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে, গভীর সমুদ্রের এ যানটির আরোহীদের কেউই বেঁচে নেই।
সম্পূর্ণ সাবমেরিনটি খুঁজে পেতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
ওশানগেট কোম্পানির এ সাবমেরিনটি আসলে একটি সাবমেরিন ছিল না বরং একটি ডুবোজাহাজ ছিল। যার অর্থ এটি সমুদ্রের মধ্যে এবং বাইরে নিজেকে একা পরিচালনা করতে সক্ষম নয়। পরিবর্তে, এটিকে অন্য কোথাও বা জাহাজ থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। সাবমেরিনটিতে সাধারণত চার দিনের জরুরী অক্সিজেন থাকে। এর ভেতরে থাকা আরোহীদের বাইরের কারও সাহায্য ছাড়া বেরিয়ে আসা অসম্ভব।
একটি প্রাইভেট কোম্পানি ওশেনগেট এর মালিকানাধীন সাবমেরিনটি কার্বন ফাইবার এবং টাইটানিয়াম দিয়ে তৈরি এবং প্রায় ২২ফুট দীর্ঘ। এর ওজন ২৩০০০ পাউন্ড। কোম্পানিটি ২০০৯ সাল থেকেই পর্যটকদের জাহাজের ধ্বংসাবশেষ এবং পানির নিচের গিরিখাতে ভ্রমণ পরিচালনা করে আসছে।

টাইটান একজন চালকসহ মোট ৫ জন একসাথে ভ্রমণ করতে পারে। এটি পানির চার হাজার মিটার গভীরে নামতে সক্ষম এবং ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে তিন মাইল গতিতে চলতে পারে এটি।
কোম্পানির মতে, টাইটানে অত্যাধুনিক আলো এবং সোনার ন্যাভিগেশন সিস্টেম রয়েছে। সেই সঙ্গে এর ভেতরে এবং বাইরে ভিডিও ও ছবি ধারণের জন্য ক্যামেরা বসানো রয়েছে। পানির চাপের প্রভাব বিশ্লেষণের জন্য রয়েছে বিশেষ সেন্সর।

উল্লেখ্য, টাইটানের ভেতরে মোট পাঁচজন যাত্রী ছিলেন। তারা হলেন পাকিস্তানি ব্যবসায়ী ও ধনকুবের শাহজাদা দাউদ (৪৮) ও তার ছেলে সুলেমান দাউদ (১৯), ওশানগেটের মালিক স্টকটন রাশও আছেন। আরেকজন পর্যটক ছিলেন ব্রিটেনের ধনকুবের হ্যামিশ হার্ডিং। যুদ্ধবিমান নির্মাণকারী সংস্থা ‘অ্যাকশন এভিয়েশনে’র চেয়ারম্যান তিনি। গভীর সমুদ্রে যাওয়ার নেশা ছিল তাঁর। এ ছাড়া ৭৭ বছর বয়সী ফরাসি পরিব্রাজক নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ডাইভার পল-হেনরি নারগোলেট।
সাবমেরিনটিতে চালকের আসনে ছিলেন ওশানগেটের মালিক স্টকটন রাশ। প্রকৃতিপ্রেমী ও দুঃসাহসিক হিসেবে স্টকটন রাশের পরিচিতি রয়েছে।
এর আগে, টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে যাওয়ার পথে ডুবে যায় সাবমেরিনটি। ডুবে যাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে ছোট সাবমেরিনটির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
জানা যায়, টাইটানিক দেখতে যাওয়ার ওই যাত্রা ছিল আট দিনের। টাইটান নিউ ফাউন্ডল্যান্ডের সেন্ট জন’স থেকে সাবমেরিনটি যাত্রা শুরু করে। সেখান থেকে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রতি টিকিটের দাম ছিল ২ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার বেশি।
দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান শেষে গতকাল খোঁজ মেলে সাবমেরিনটির। আটলান্টিক মহাসাগরে টাইটানিকের পাশেই নিখোঁজ সাবমেরিন টাইটানের ‘ধ্বংসাবশেষ’ পাওয়া গেছে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড। ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরণের স্বীকার হয়েছিল সাবমেরিনটি।







