ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর গভীর শোক ও অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে দেশটি। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা গত মাসের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তার বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন। এ ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যরাও প্রাণ হারান।
খামেনির মৃত্যুর পর ইরান নতুন নেতৃত্ব গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ থাকবেন।
এই ঘটনার পর দেশজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ আনন্দ উদযাপন করেছে, আবার কেউ শোক পালন করেছে। রাজধানী তেহরানে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে “আমেরিকার মৃত্যু” ও “ইসরায়েলের মৃত্যু” স্লোগান দেয়।
বিশ্বজুড়ে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্নরকম। কেউ স্বস্তি প্রকাশ করেছে, আবার কেউ গভীর উদ্বেগ ও শোক জানিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই হত্যাকাণ্ডকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
আয়াতুল্লাহ- রুহুল্লাহ খমেনি: একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন রুহুল্লাহ খোমেনি। যিনি ১৯৭৯ সালের ইরান রেভ্যুলেশনের নেতৃত্ব দেন। এই বিপ্লবের মাধ্যমে পশ্চিমা সমর্থিত শাহ শাসনের অবসান ঘটে এবং ইরানে একটি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
খোমেনি বিশ্বাস করতেন ধর্ম ও রাজনীতি অবিচ্ছেদ্য। তার এই মতবাদ ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে এবং দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি জোটের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে ফেলে।
ভারতের উত্তর প্রদেশের সঙ্গে খামেনির সংযোগ
খোমেনির পারিবারিক শিকড় ভারতের বারাবাঁকি অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত। তার দাদা সৈয়দ আহমেদ মুসুভি হিন্দি ছিলেন একজন ধর্মীয় চিন্তাবিদ, যিনি ১৮৩০ সালে বারাবাঁকি থেকে ইরানে পাড়ি জমান।
তার নামের শেষে হিন্দি যুক্ত করা হয়েছিল তার ভারতীয় পরিচয়ের কারণে। তিনি এমন একটি সময়ে বড় হন, যখন মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের পর ভারতে ব্রিটিশ শাসন বিস্তার লাভ করছিল।
আহমদ হিন্দি প্রথমে ইরানের নাজাফ শহরে হজরত আলীর মাজার জিয়ারত করতে যান। পরে ১৮৩৪ সালে তিনি ইরানের খোমেন শহরে বসবাস শুরু করেন এবং পরিবার গড়ে তোলেন। তার সন্তানদের মধ্যে একজন ছিলেন মোস্তফা, যিনি খোমেনির পিতা। খোমেনির জন্ম হয় ১৯০২ সালে। যদিও আহমদ হিন্দি তার জন্মের আগেই মৃত্যুবরণ করেন, তবুও তার ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আদর্শ খামেনির চিন্তা-ভাবনায় গভীর প্রভাব ফেলে।
ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যু যেমন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে, তেমনি রুহুল্লাহ খামেনির ঐতিহ্য এবং তার ভারতীয় শিকড় ইরানের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে।








