সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন বাংলাদেশের সংবিধান ও সংস্কার প্রস্তাব বিষয়ে বলেন, ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর সংবিধান দিবস পালিত হয়ে আসছে। মূলত: সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনার দলিল।
বিগত ৫৩ বছর যাবৎ এই সংবিধানে নানা পরিবর্তন হয়েছে। সংবিধান সংস্কার একটি সংবেদনশীল বিষয়। এই প্রক্রিয়াটি অবশ্যই জনগণের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বাংলাদেশের সংবিধান ও সংস্কার প্রস্তাব শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. কামাল হোসেন বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবিধান পর্যালোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে যে কোন সংস্কারের সময় আমাদের মনে রাখতে হবে, সংবিধান আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি, বাংলাদেশের সকল মানুষের ত্যাগ ও একতাবদ্ধ আকাঙ্ক্ষার ফসল। কোন ব্যক্তিই এককভাবে সংবিধান পরিবর্তন করার অধিকার রাখেন না। সংস্কারের প্রস্তাবগুলোতে অবশ্যই জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হতে হবে এবং সমাজের বর্তমান চাহিদার সঙ্গে আমাদের মৌলিক মূল্যবোধের সামঞ্জস্য হতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে যে, সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ এবং গণতন্ত্রহীনতার জন্য শুধু সংবিধানকে দায়ী করার প্রবণতা থেকে বের হতে হবে, বরং সরকার ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতন্ত্র অনুশীলন সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিতে হবে।
সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, বিগত সময়ে দেশের যে সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের ফলে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে সেগুলো সংস্কার জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে না পারলে গণতন্ত্র কখনই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে না।
তিনি বলেন, আমি আশা করি, আগামীতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সক্ষম হবে এবং নিয়মতান্ত্রিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক, ন্যায়সঙ্গত ও প্রগতিশীল একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনে তারা ভূমিকা রাখবে।








